নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন রামারবাগ এলাকায় বিজ্ঞ আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম ডালিমের বাড়িতে সন্ত্রাসীদের আক্রমণ, আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতরা হলেন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু শামীম, পিয়াসা আক্তার, বহুমামলার আসামি চিহ্নিত অপরাধী আলতাব, বাবুল ও ফকরুদ্দিন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আইনজীবীর স্ত্রী মাহমুদা ইসলাম নারগিস বাদী হয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা যায়। কিন্তু অভিযোগ করার পরেও ফতুল্লা থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়ায় এবং কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেয়ায় সন্ত্রাসীদের দ্বারা পুনরায় আক্রমনের শিকার হন আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম ডালিম। সেই সকল সন্ত্রাসীরা আবারও দ্বিতীয় দফায় বাড়িতে এসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগী ঘটনার বিবরণে জানান, গত ৩ জানুয়ারী শনিবার আমি বাসার বাহিরে গেলে আমার অনুপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বসত বাড়িতে অবৈধভাবে উপরোক্ত সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে হামলাচালায়। এসময় ঘরে প্রবেশ করে জিনিসপত্র ভাঙচুর করে সেই সাথে ঘরে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটে নেয়। এ সময় আমার স্ত্রী তাদের অবৈধ কাজে বাঁধা দিতে গেলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে । সেই সাথে হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে আমার স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বা মামলা করলে আমাদের পরিবারের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। ৯৯৯ এ কল করলে এসআই সঞ্জীব ঘটনা স্থলে আসেন এর পরবর্তীতে এ ঘটনার বিষয়ে আমার স্ত্রী বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ বিষয়টিকে আমলে নেয়নি বা কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যার ফলে পুনরায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে উক্ত সন্ত্রাসীরা দ্বিতীয় দফায় একই কায়দায় এসে বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ভাড়াটিয়াদের উপর আক্রমণ করা সহ বাড়ির সকল ভাড়াটিয়াদের ব্যবহৃত গ্যাসের চুলা খুলে , বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আমি মুঠোফোনে আমার অভিযোগের তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই সঞ্জীবকে জানালে তিনি আসবেন বলেও কালক্ষেপণ করতে থাকেন। অতঃপর আমার স্ত্রী সার্কেল এসপি (ক’ অঞ্চল) এর সাথে যোগাযোগ। আমি এসআই সঞ্জীবকে বিষয়টি দেখতে বলেন। এসআই সঞ্জীব উভয় পক্ষকে সন্ধ্যায় বসবার কথা থাকলেও বসে কোন ব্যবস্থা নেননি। আইনের আশ্রয় নিয়ে ও কোন প্রতিকার না পেয়ে এখন আমরা আতংকিত এবং মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি। বর্তমানে আমি পরিবারসহ প্রাণ সংশয় ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কারণ, তারা যে কোনো সময় আবারও আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভূমিদস্যু ও ১২টি প্রতারণা মামলার আসামী আলতাব গং একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ থাকলেও তারা বীরদর্পে এলাকায় জবরদখল, চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের অত্যাচারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেও তাদের মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি ও মারধর করে থাকে। তারা এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
