ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার কাঠামোগত সক্ষমতা ও পরিধি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকা ছয় একর জমি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) অনুকূলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।গতকাল শনিবার বিকেলে পূর্বাচলের বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্টে আত্মত্যাগ করা শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে দেশ। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই আজ দেশের জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ও আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষা। এবারও মেলায় যাতায়াত সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, সড়ক সংস্কারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে মেলায় যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, গৃহস্থালি, শিল্প, ভোগ্যপণ্য ও সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যের সমাহার নাগরিকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। এই মেলা দেশের জাতীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেয় এবং নতুন উদ্ভাবনে অনুপ্রাণিত করে। তিনি আরও বলেন, দেশে উৎপাদিত অনেক পণ্য রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদকরা মেলায় অংশ নেন না। যারা বিক্রির উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রদর্শনীর জন্য আসতে চান, তাদের জন্য সাশ্রয়ী কিংবা বিনামূল্যে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে ইপিবির বোর্ডসভায় আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। নতুন উদ্ভাবিত পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছাতে ইপিবি কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে দিকেও গুরুত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হুসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরে মোট ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি মেলা থেকে ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, গত বছরের তুলনায় এবারের মেলায় পণ্য বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। এতে দেশীয় পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ও আস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, এবছর সিঙ্গাপুর, হংকং, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ মোট আটটি দেশ থেকে রপ্তানি আদেশ এসেছে। এসব দেশের জন্য অর্ডার পাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে বহুমুখী পাটজাত পণ্য, তাঁতবস্ত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কসমেটিকস এবং বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য। এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। মেলায় কারা অধিদপ্তর, জয়িতা ফাউন্ডেশন, বিসিক, তাঁত বোর্ড, জেডিপিসি, এপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড ও বাংলাদেশ টি-বোর্ডের বেশ কিছু পণ্য নতুন হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। এছাড়া অংশগ্রহণ ও পণ্যের মান বিবেচনায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
