ঢাকাশুক্রবার , ২৭ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আজ দেশজুড়ে
  4. আজকের সর্বশেষ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কৃষি সংবাদ
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্টগ্রাম
  10. চাকরি-বাকরি
  11. ছড়া-কবিতা
  12. জাতীয়
  13. জীবনযাপন
  14. ঢাকা
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজাকারের বাচ্চা নিচে নাম বঙ্গবন্ধুর কোনো অবদান নেই মন্তব্য করাই মঞ্চ থেকে নামানো হলো জমিয়ত নেতাকে

পটুয়াখালি সংবাদদাতা
মার্চ ২৭, ২০২৬ ১:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মহান স্বাধীনতা দিবসের একটি সরকারি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পটুয়াখালীতে। শেখ মুজিবুর রহমান এর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আবদুল হক কাওসারীকে প্রকাশ্য অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ, ক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে তাঁকে অনুষ্ঠান ত্যাগ করতে বাধ্য করে।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিরাও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাওলাদারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। পরে একে একে অতিথিরা বক্তব্য দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আবদুল হক কাওসারী বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠে প্রথমেই বলেন, তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করেন, তবে স্বাধীনতার যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো অবদান নেই এমন দাবি করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই মিলনায়তনের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মুক্তিযোদ্ধারা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং কেউ কেউ তাঁকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়ে মঞ্চ থেকে নামতে বলেন।

মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। মিলনায়তনের ভেতরে হট্টগোল, চিৎকার ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখা দেয়। অনেক মুক্তিযোদ্ধা ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের থামান। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী দেলোয়ার হোসেন (দিলিপ) বলেন, এটি শুধু একটি বক্তব্য নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, আমাদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করার সামিল। আমরা তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারিনি। তাই সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছি।”

সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর সরদার রশীদ বলেন, এ ধরনের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এসে কেউ যদি জাতির পিতার অবদান অস্বীকার করে, সেটি শুধু দুঃখজনক নয়, এটি জাতির সঙ্গে চরম অবমাননার শামিল। উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাওলানা আবদুল হক কাওসারীকে বক্তব্য বন্ধ করে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয়। পরে তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি দ্রুত মিলনায়তন ত্যাগ করেন। তাঁর বের হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং অনুষ্ঠান আবার শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, “জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সম্মান জানাতে এই আয়োজন করেছি। সেখানে কোনো ব্যক্তি যদি আপত্তিকর বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তাহলে তা বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্য দেওয়ার সময়ই উপস্থিত লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন এবং পরে প্রশাসনের নির্দেশে ওই নেতাকে দ্রুত মঞ্চ ছাড়তে হচ্ছে।

অভিযুক্ত মাওলানা আবদুল হক কাওসারী পরে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, তিনি মূলত ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে বোঝাতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, ওই সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন, তাই সেই নির্দিষ্ট সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যাও জনমনে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতার ভূমিকা বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এ বিষয়ে বিতর্কিত বা উসকানিমূলক বক্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে, যা পটুয়াখালীর এই ঘটনাতেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা শুধু অনুষ্ঠানকে বিব্রতকর করে তোলে না, বরং সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ঘটনার পর পুরো জেলায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গও তুলেছেন। তবে সব মিলিয়ে ঘটনাটি পটুয়াখালীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য।

এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: