ঢাকাসোমবার , ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আজ দেশজুড়ে
  4. আজকের সর্বশেষ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কৃষি সংবাদ
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্টগ্রাম
  10. চাকরি-বাকরি
  11. ছড়া-কবিতা
  12. জাতীয়
  13. জীবনযাপন
  14. ঢাকা
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৭ মাসের নিরবিচ্ছিন্ন অপরাধ ভোগাতে পারে বিএনপিকে

নিজস্ব সংবাদদাতা
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট। দেশের ১৮ কোটি মানুষের একটি অন্যতম উপভোগ্য দিন। যেদিন প্রায় ১৭ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী রাষ্ট্র পরিচালনার সমাপ্তি ঘটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে। সেদিন দুপুর ৩টায় যখন আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার জানতে পারে একটি বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে দেশ ত্যাগ করছেন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ঠিক সেই সময় থেকেই লুটপাটসহ বিভিন্ন অরাজকতায় নেমে পড়ে কিছু লোভী মানুষ। তবে তাদের বেশীরভাই ছিলো বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় যে, ৫ আগষ্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পলায়নকে কেউ বলেন নতুন স্বাধীনতা আবার অনেকে বলেন স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকে সারাদেশের ন্যায় আমাদের নারায়ণগঞ্জে যে তান্ডবলীলা চলেছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে অস্ত্র লুট, জেলা পুলিশ লাইনস এ লুটপাট, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ক্যাটাগরীর নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ,বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ আরো কতইনা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা বলঅবাহুল্য। হামলা-লুটপাট-অগ্নিসংযোগের পর শুরু হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার হত্যা ও আহতের ঘটনায় মামলা বানিজ্য যা বেশীরভাই হয়েছে একশ্রেনীর বিএনপির অর্থলোভী নেতাদের দ্বারা। দাবীকৃত টাকা না দেয়া,আওয়ামীলীগ করার অপরাধে বিভিন্ন কারন দেখিয়ে পুরো নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানাতে কয়েক শতাধিক মামলা হয়েছে যার বেশীরভাগ আসামী হয়েছে দাবীকৃত টাকা না দেয়াতে। অর্থলোভী উক্ত নেতাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি শিল্প-কলকারখানার মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও। ১২ ফেব্রুয়ারীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপির একক এবং একটিতে জোটের প্রার্থী। আওয়ামী দুঃশাসনের ১৭ বছরের অপরাধগুলো যেন বিগত ১৭ মাসে তার চেয়েও কয়েকগুন বেশী ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সাধারন মানুষকে। এ ১৭ মাসে অঘোষিতভাবে ক্ষমতার মসনদ পাওয়া বিএনপির নিরবিচ্ছিন্ন অপরাধগুলো সকল সীমা অতিক্রম করে সাধারন মানুষকে নাভিশ^াস করে তুলেছে। অব্যাহত চাদাঁবাজি-ভুমিদস্যুতা,মাদকের ভয়াবহতা-হাট-ঘাট-মাঠ দখল করাসহ কোন কিছুইতে পিছিয়ে ছিলোনা বিএনপি নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয়,৫ আগষ্ট পরবর্তী প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বেড়ে যাওয়া চুরি-ডাকাতি কমাতে যেই সকল বাহিনী নিযুক্ত করেছিলো সেই নিযুক্ত বাহিনীর মাধ্যমেই নাকি চুরি-ডাকাতিসহ ছিচকে অপরাধগুলো সংঘটিত হতো। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ১’এ মোস্তাফিজুর রহমান দিপু,নারায়ণগঞ্জ ২’এ নজরুল ইসলাম আজাদ,নারায়ণগঞ্জ ৩’এ আজহারুল ইসলাম মান্নান,নারায়ণগঞ্জ ৪’এ জোটের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এবং নারায়ণগঞ্জ ৫’এ অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এ ৫ টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে আলোচিত ও সমালোচিত আসেন মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ১-২ ও ৪ আসন। এ নির্বাচনী আসনগুলো অপরাধগুলো একটু বেশী সংঘটিত হয়েছে ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ১ আসনে রুপগঞ্জের সেই আলোচিত এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর। যার বিভিন্ন সেক্টরগুলো নিয়ন্ত্রনে রয়েছে এমপি প্রার্থী দিপু বাহিনী। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি একাকার হয়ে পড়েছে রুপগঞ্জের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সেখানে বসবাসকারী আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পরিবার এবং সাধারন নিরীহ মানুষগুলোই বেশী ভুক্তভোগী হয়েছে দিপু বাহিনীর মাধ্যমে। আবার নারায়ণগঞ্জের সাবেক গডফাদার শামীম ওসমানকে তার স্বপরিবারে বিদেশ পালাতেও দিপু ভুইয়া অগ্রনী ভুমিকা রয়েছে বলে ব্যাপক চাউর রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ২ ( আড়াইহাজার ) যা পুরো দেশের ভেতরেই ডাকাতের কারখানা হিসেবে ব্যাপক সুপরিচিত। ৫ অঅগষ্ট পরবর্তী নজরুল ইসলাম আজাদ ও তার বাহিনীর মাধ্যমে এলাকাগুলোতে এমন কোন অপরাধ বাদ যায়নি যা তাদের দ্বারা সংঘটিত হয়নি। মামলা বানিজ্য-চাদাঁবাজি-চুরি-ডাকাতি-দখল-দ্বারিত্ব কোনটাই বাদ ছিলনা আড়াইহাজারে। যার নির্দেশে পুরো আড়াইহাজার জুড়ে এত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সেই আজাদকেই দল থেকে মনোনীত প্রার্থী করা হয়েছে। সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবু’র পলায়নের পর পুরো আড়াইহাজারে যেন আতংকের নতুন নামে আর্বিভুত হয়েছে নজরুল ইসলাম আজাদের নামটি। নানাবিধ অপরাধ এবং সম্প্রতি কাচঁপুরের সমাবেশে তারেক রহমানের সমাবেশের মঞ্চ থেকে নজরুল ইসলাম আজাদকে তিরস্কারের ১২ তারিখের নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে তার ক্ষেত্রে। আড়াইহাজারের সাধারন মানুষ নজরুল ইসলাম বাবুর মত আর কোন নজরুল ইসলাম আজাদকে দেখতে চায় না। দেখতে চায় শান্তিকামী কোন নেতাকে। নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। ভোটারদের কাছে কম পরিচিত একজন মানুষ। যার ফলে বিএনপি নেতাদের উপর নির্ভরশীল হয়েই তাকে মাঠে প্রচার-প্রচারনা চালাতে হচ্ছে। তার কাসেমীর পেছনে যেসকল বিএনপি নেতাকর্মীরা রয়েছেন তার ৯৫ ভাগ বিতর্কিত। ৫ আগষ্ট পরবর্তী নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমন কোন পাড়া-মহল্লা বাদ নেই যেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের অপরাধের কোন ছোয়া নেই। টাকার জন্য শিল্পপতির ছেলেকে আটকিয়ে রেখে কোটি টাকা আদায়,ব্যবসায়ীর দোকানে লুটপাট, শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ, দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় মামলায় জড়ানো,হাট-ঘাট-মাঠ দখল,মাদকের প্রবনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা,মামলা বানিজ্য, চাদাঁবাজি,ভুমিদস্যুতাসহ এমন কোন অপকর্ম বাদ নেই যা সংঘটিত হয়নি বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে। সেই বিভিন্ন অপকর্মকারীরা এখন বিএনপির জোট প্রার্থীর জন্য দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। অথচ বিগত ১৭ মাসে যে সকল বিএনপি নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো পুনরায় ভোটাররা উক্ত অপরাধীর চেহারাগুলো আবারও আতংকে ফেলছে সাধারন মানুষকে। তবে সাধারন মানুষের মতে,১৭ বছরের অপরাধগুলো যেন ১৭ মাসে ছাড়িয়ে গেছে বহুগুনে। যা এখনও আমাদের মনে পুনরুজ্জীবিত করে তুলছে। কারন গত ১৭ মাসে এ দলের নিরবিচ্ছন্ন অপরাধগুলো আমাদেরকে ক্ষনে ক্ষনে মনে করিয়ে দিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ৩ ও ৫ আসনেও সেই একই অবস্থা বিরাজমান। শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে রাস্তায় চলাচলকারী ইজিবাইক ও মিশুক গাড়ীগুলোও বাদ পড়েনি চাদাঁবাজির কবল থেকে। ৫ আগষ্ট বিকেল থেকে শুরু হওয়া উক্ত অপরাধগুলো এখনও চলমান রেখেছে অর্থলোভী বিএনপি নেতারা। টাকা জন্য মাদক বিক্রেতাদের শেল্টার দেয়া,ফুটপাতে চাদাঁবাজি,দোকান বসিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং প্রকাশ্যে চাদাঁবাজির অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক চাদাঁবাজকে ছাড়িয়ে নিতেও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ফোন করে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন তারা। এমনকি আওয়ামীলীগের সাবেক এমপির তেলের জাহাজ বিক্রি করা এবং ব্যবসায়ীকে চাদাঁর দাবীতে তার শিল্পপ্রতিষ্ঠান আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার হুকমীর ঘটনাও ৫ আগষ্টের পর ঘটিয়েছে এ সকল বিএনপি নেতারা। সাধারন মানুষের মতে, ৫ আগষ্টের পর থেকে শুরু করে অদ্যবদি বিএনপি নিরবিচ্ছিন্নভাবে যে সকল অপরাধগুলো চালিয়ে গেছে বা এখনও যাচ্ছে সেজন্য ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে তাদেরকে চরম মুল্য দিতে হতে পারে। কারন দেশের সাধারন মানুষ এক স্বৈরাচারকে উৎখাত করে নতুন করে কোন স্বৈরাচারকে অবশ্যই চাইবেনা। অপেক্ষা করতে হতে ১২ তারিখের নির্বাচন পরবর্তী ফলাফলের জন্য।

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য।

এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: