প্রতিষ্ঠিতদের পেছনে ফেলে একক মহিমায় এগিয়ে চলেছেন আইভী। আইভী শুধু একটি নাম না, এই নামের পেছনে লুকিয়ে আছে সমগ্র নারায়নগঞ্জ শহর। নারায়নগঞ্জ তথা সমগ্র বাংলাদেশে আইভী নামটি এখন সকলের কাছে পরিচিত ব্যাক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আইনি জটিলতায় বর্তমানে কারাগারে থাকলেও, আসন্ন মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন গুঞ্জনে সরগরম পুরো শহর। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই এখন এক প্রশ্ন: তবে কি জেল থেকেই ভোটের লড়াইয়ে নামবেন আইভী?
আইভীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, “জনগণের আদালতই চূড়ান্ত বিচারক”এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নির্বাচনমুখী হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সমর্থকদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাই তার কৌশল; আদালতে আইনি লড়াই চলবে, পাশাপাশি জনসমর্থনের পরীক্ষায়ও অংশ নেবেন তিনি।
অভিজ্ঞ রাজনীতিকেরা বলছেন, যদি সত্যিই কারাগার থেকে প্রার্থী হন আইভী, তাহলে তা হবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা। স্থানীয় রাজনৈতিকদের মতে, কারাগার থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ করবে এক নতুন মাত্রা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। একদিকে আইনি প্রক্রিয়া, অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনা দুটি সমান্তরাল ইস্যু এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং সংগঠনের শক্ত ভিত্তি তাকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দিতায় এগিয়ে রাখতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি কেবল একটি কৌশলগত বার্তাও হতে পারে দলীয় রাজনীতির ভেতরে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার একটি হিসাবি পদক্ষেপ। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মামলার আইনি অবস্থান ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে অযোগ্য ঘোষিত হলে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে আইনি জটিলতা কাটাতে না পারলে নির্বাচন করার সুযোগ নাও মিলতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ শহরে এখন যেন এক অদৃশ্য কাউন্টডাউন। রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকরা প্রস্তুতির আভাস দিচ্ছেন।সাম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন সতর্কভাবে। চায়ের আড্ডা, রাজনৈতিক কার্যালয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিশ্লেষণ, পাল্টা বিশ্লেষণ এবং নানা সম্ভাবনার আলোচনা।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই“জেল থেকে কি সত্যিই ভোটে নামবেন আইভী নাকি এটি সময়োপযোগী একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র ?” উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গেই। সময়ের কাঁটা এগোচ্ছে, উত্তেজনা বাড়ছে।
রাজনীতির এই নাটকীয় অধ্যায়ের শেষ দৃশ্য কী হবে তা জানতে অপেক্ষা করতেই হবে। তবে কোনো একক মহলের কাছে আইভীযে বন্দি নয় তা সকলেই বুঝতে পেরেছেন। আইভীকে পেছনে ফেলতে এমনিতেই অনেকেই ততপর হয়ে রয়েছে। বিএনপির মহানগর সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন সহ জাকির খানের নাম বেশ জোড়ে শোড়ে শোনা গেলেও ভেতরে ভেতরে বেশ আনেকেই ততপর মেয়র নির্বাচনে দাড়াতে।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
