দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা নারায়ণগঞ্জ। পোশাকশিল্প, নদীবন্দর, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে জাতীয় পর্যায়ে এ জেলার আলাদা পরিচিতি থাকলেও মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আবারও বঞ্চিত থাকার আলোচনা জোরালো হয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। বাকি একটি আসন তাদের জোটের শরিক দলের প্রার্থী পান। নির্বাচনে এই সাফল্যের পর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা ছিল যে নতুন মন্ত্রিসভায় নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্তত একজন প্রতিনিধিকে স্থান দেওয়া হতে পারে। তবে ঘোষিত মন্ত্রিসভায় জেলার কোনো সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী করা হয়নি। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু) জয়লাভ করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় এই নেতা প্রথমবারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ বিজয়ী হন। দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে তার এই বিজয়কে স্থানীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান জয়ী হয়েছেন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক বেশি ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদর এলাকার অংশ) আসনে ১১ দলীয় জোটসমর্থিত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন (শাপলা কলি) প্রতিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে এই আসনের ফলাফল বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এছাড়াও এখানে প্রতিদন্দিতা করেছেন বিএনপি’র বঞ্চিত হেবিওয়েট প্রার্থীগণ। নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির আবুল কালাম জয়ী হয়ে পুনরায় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এর আগে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন, ফলে তাকে অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, শিল্প ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জেলার প্রতিনিধিত্ব জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালো হওয়া উচিত ছিল। তাদের মতে, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি হলে জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প সম্প্রসারণ ও নাগরিক সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠন কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। দলীয় কৌশল, অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতাসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকেও সব সময় মন্ত্রী নাও হতে পারেন। এর আগে বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রী থাকলেও ধারাবাহিকভাবে প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বা সম্প্রসারণ হলে জেলার প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এদিকে রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, মন্ত্রী না থাকলেও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব থাকলে জেলার স্বার্থ আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরা সহজ হয় এমন মতও রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দিকে।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
