ঝিনাইদহের মহেশপুরের বালিগর্ত বাজারের পৌরসভার জমিতে মার্কেট আকারে ১৩টি আধা-পাকা দোকান ঘর নির্মান করা হয়েছে। এসব দোকান ঘর নির্মাণে সরকারী কোন অনুমোদন, বরাদ্দ কিংবা কোন ইস্টিমেট লাগেনি। সাবেক মেয়র আব্দুর রশিদ খান ও ততকালিন এবং বর্তমান প্রকৌশলী সোহেল রানার যোগসাজসে পৌরসভার জমিতে দুর্নীতির অপকৌশলে এসব দোকান ঘরগুলো নির্মান করা হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় হিসেবে মৌখিক বরাদ্দে ১২ জন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অগ্রীম নেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ টাকা। যদিও অভিযোগ রয়েছে এসব দোকানঘর নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে মাত্র ১০/১২ লাখ টাকা। এদিকে বালিগর্ত বাজাররে পৌরসভার জমিতে মার্কেট আকারে ১৩টি দোকানঘর থাকলেও এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না পৌর প্রশাসক খাদিজা আক্তার।
৫ আগস্টের আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পর পর দু’বার মহেশপুর পৌরসভার মেয়র হন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ শফিকুল আজম খান চঞ্চলের চাচাতো ভাই আব্দুর রশিদ খান। নৌকা প্রতীক নিয়ে যোগ্যতা ছাড়ায় মেয়রের চেয়ারে বসেন তিনি। অবৈধ ক্ষমতাকে পুঁজি করে পৌরসভাকে বানান দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। যার ফলে ভাগ্য বদলে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি। মেয়রের এসব দুর্নীতির তালে তাল মিলিয়ে নিজের আখের গোছাতে ভুল করেননি পৌরসভার প্রকৌশলী সোহেল রানা।
অনুসন্ধানে মহেশপুরের বালিগর্ত বাজারের পৌরসভার জমিতে নির্মাণ করা দোকানঘর নিয়ে বেরিয়ে এসেছে সাবেক মেয়র, কাউন্সিলর ও প্রকৌশলীর ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র। জানা গেছে, গত বছরের মাঝের দিকে সাবেক মেয়র ও প্রকৌশলী বালিগর্ত বাজারের পৌরসভার জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। কোন সরকারি অনুমোদন কিংবা ইস্টিমেট ছাড়াই দোকানঘর নির্মাণে ৬ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি কমিটি তৈরী করেন। ওই কমিটির সভাপতি করা হয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আক্তারকে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন, ৬ নম্বরের কাউন্সিলর কাজী আতিয়ার রহমান, ৭ নম্বরের হাশেম পাঠান, ৯ নম্বরের জাহাঙ্গীর আলম, ৩ নম্বরের রুহুল আমিন মিন্টু ও পৌর প্রকৌশলী সোহেল রানা। নির্মাণ ব্যয় সংগ্রহে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার নামে ১২ জন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা করে ২৪ লাখ টাকা অগ্রীম নেওয়া হয়। দোকানঘর বরাদ্দের আশায় ওই ১২ জন ভাড়াটিয়ারা কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ২ লাখ করে মোট ২৪ লাখ টাকা জমা দেন। যদিও এসব টাকা লেনদেনে কোন লিখিত নেই। টাকা সংগ্রহের পর সাবেক মেয়র ও প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে ভিট কাটার কাজ শুরু হয়। অগ্রীম নেওয়া ২৪ লাখ টাকা ও দোকানঘর নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় নির্মাণ কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর বাবলু আক্তারকে। পৌর প্রকৌশলী সোহেল রানার নকশা ও সার্বিক তত্ত্ববধানে পৌরসভার জমিতে সরকারি কোন অনুমোদন ছাড়াই দু’ মাসের মধ্যে মার্কেট আকারে প্রস্তুত করা হয় ১৩ টি আধা-পাকা দোকান ঘর। নিচে ইটের পাকা গাঁথুনি ও উপরে টিনের ছাউনি দেওয়ায় এসব দোকান নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০/১২ লাখ টাকা। বাঁকি টাকা কোথায় আছে কেউই জানেন না। দোকান বরাদ্দের ঠিক আগে ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে চেয়ার হারান দুর্নীতিবাজ মেয়র আব্দুর রশিদ খান। এরপর থেকে নিরব ভূমিকায় রয়েছে পৌরসভার জমিতে অনুমোদনহীন ভাবে গড়ে তোলা ১৩টি দোকান ঘর। এদিকে নিজে বিপদে পড়ায় শঙ্কায় ওই মার্কেট নিয়ে কোন কথা তুলেননি প্রকৌশলী সোহেল রানা। তবে দোকান নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বরাদ্দ বুঝে না দেওয়ায় অগ্রীম টাকা দেওয়া ব্যক্তিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দোকানের জন্য একাধিকবার কাউন্সিলর ও পৌরসভার প্রকৌশলীর কাছে যেয়েও কোন লাভ হয়নি অগ্রীম টাকা দেওয়া ওইসব ব্যক্তিদের। অগ্রীম টাকা দেওয়া গোপালপুর গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, পৌরসভার প্রকৌশলী দোকান ঘরের নকশা করে রাস্তার দুই পাশে টাঙিয়ে দেন। ওই নকশা দেখে দোকান বরাদ্দ নিতে পৌর মেয়র কাছে আবেদন করি। এসময় মেয়র আমাদেরকে বাবুল কাউন্সিলরের কাছে দোকান প্রতি দুই লাখ করে টাকা জমা দিতে বলেন। পরে আমরা বাবুল আক্তারের কাছে ২ লাখ করে টাকা জমা দিই। কিন্তু নিমাণ কাজ শেষ হলে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ঘর বুঝে দেওয়া হয়নি। টাকা দেওয়া আঃ মজিদ রবি বলেন, আমি একটি দোকান ঘর বরাদ্দে পেতে জাহাঙ্গীর কাউন্সিলরের মাধ্যমে ২লাখ টাকা দিয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর সাথে যোগাযোগ করেছি তিনি জানিয়েছেন সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। কাউন্সিলর আব্দুস সালাম বলেন, ওই সব দোকানঘর নির্মাণে এককভাবে সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বাবুল কাউন্সিলর। দোকান রবাদ্দ দেওয়ার নামে মানুষদের কাছ থেকে টাকা তুলে বাবুল ভাই দোকানঘরগুলো নির্মাণ করেছেন। বাকি টাকাও তার তাকে জমা আছে। নির্মাণ কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর বাবুল আক্তার বলেন, ঘর বরাদ্দ বাবদ ১২ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নিয়ে পৌরসভার জমিতে ১৩টি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পৌরসভার প্রকৌশলী সোহেল রানা নির্মাণ কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ হয়েছে। প্রকৌশলী এই কাজের রেজুলেশনসহ সকল দায়িত্বে ছিলেন। দূতীতিবাজ পৌরসভা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলররা মিলে দোকান বরাদ্দের নামে টাকা তুলে ওই দোকান ঘর গুলো নির্মাণ করা হয়েছে। ঘর গুলো টেন্ডারের মাধ্যমে করা হয়নি। এতে সরকারি কোন অনুমোদন নেই। আমাকে মৌখিক ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। অগ্রীম টাকা গুলো কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। দোকানঘর নির্মাণে বাবুল কাউন্সিলরের সাথে আরো অনেকেই ছিলেন। পৌরসভার প্রশাসক খাদিজা আক্তার বলেন, বালিগর্ত বাজারে পৌরসভার জমি আছে এটা জানি। কিন্তু ওই জমিতে কোন দোকানঘর আছে কিনা জানা নেই। এব্যাপারে কেউ আমাকে কোন লিখিত করে জানাননি।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
