বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা, বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ৫ আগষ্ট গণ-অভূত্থানে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দুই নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন তার নেতৃত্বে ছিনতাই, চাদাবাজি, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট করে পুরো এলাকায় ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট করে প্রায় ৫০ কোটি টাকার মালামাল লুট করেছে ইকবালবাহিনী। শুধু তাই নয়, এলাকায় কিশোরগ্যাংসহ একাধিক সন্ত্রাসীদের গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন। গত শনিবার রাতে ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগিরা মিজমিজির আব্দুল আলী পুল এলাকার বাসিন্দা হাজী শফিকুল ইসলামের ছেলে সীমান্তকে মৌচাক এলাকা থেকে ধরে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেধরক মারধর করেন। সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে জহিরুল, পলাশ, মোক্তার,আনোয়ারসহ ১৫/২০ জনের একটি সিন্ডিকেট সীমান্তকে ধাড়ালো ছুড়ি, হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত যখম করে তার হাত পা গুড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সীমান্তকে নিয়ে যায় খানপুর হাসপাতালে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সীমান্তকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অল্পের জন্যে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন সীমান্ত। তাকে জানে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিলো ইকবালবাহিনীর। মিজমিজি এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা জানিয়েছেন, গেল পাঁচ আগষ্টের পর সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। ইট,বালু, সিমেন্ট বাড়ি করতে যার যাই লাগুকনা কেন ইকবাল হোসেনকে না জানিয়ে বাড়ি করলেই ওই বাড়িওয়ালা উপর নেমে আসে অশান্তির কালো ছায়া। ইকবালের সাথে দেখা করে তার চাহিদা মাফিক চাঁদা দিয়ে বাড়ি করতে হয়। না হয় মারধর হামলা,মামলার শিকার হতে হয় ওই জমির মালিককে।তন্নি আক্তার নামে মিজমিজি এলাকার এক বাসিন্দা জানান, দোকান পাট থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি সকল জায়গায় চাঁদাবাজি করছে ইকবালের নেতৃত্বে একটি বাহিনী। চাঁদা না দিলেই ওই বাহিনীর সদস্যরা মারধর, হামলা চালায়। তিনি বলেন, ইকবালবাহিনীর হাত থেকে রক্ষা চাই আমরা। ইকবালের কাছ থেকে বাঁচতে চাই আমরা মিজমিজি দুই নাম্বার ওয়ার্ডবাসী। আক্কাস আলী নামে সাহেবপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা জানান, মিজিমিজি এলাকার এক নব্য মাফিয়ার নাম সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন। গেল ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি করে নিজের কেন্দ্রটিতেও বিএনপিকে পাশ করাতে পারে নি ইকবাল। তবে ইকবালের আতংকে থাকতে হয় আমাদের। পুরো এলাকাটিকে সন্ত্রাসের জনপদ বানিয়েছেন ইকবাল হোসেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে বিএনপির, চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিএনপি নেতাকর্মীদের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করার জন্য মহড়া দিয়েছেন। এতে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজক্ত কায়েক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইকবাল হেসেন। ৭ হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের সম্রাজ্য দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিএনপির সকল প্রকার কার্যক্রম ও সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। সম্প্রতি এই বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের পর থেকে তিনি ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের সাধারণ মানুষ এই নব্য মাফিয়া ইকবাল হোসেনর হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।
করিম আহমেদ নামে এক পান দোকানী জানান, বিএনপির নীতি নির্ধারকরা যদি সাবেক কাউন্সিলর ইকবালের লাগাম টেনে না ধরলে চড়ামূল্য দিতে হবে। তিনি বলেন, দ্রুত এই চাঁদাবাজবাহিনীর প্রধান সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইকবাল হোসেনের বিচার দাবি করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জের মিজিমিজি এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি, হামলা, লুটপাটের ঘটনায় জানতে ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।
এ বিষয় জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোন অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না
র্যাব-১১- এর অধিনায়ক লে:কনেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রত্যেক এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের তালিকা করা হচ্ছে। খুব শিগ্রই ওই সকল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
