নারায়ণগঞ্জ শহরের বহুল পরিচিত ৩ নম্বর মাছ ঘাট এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ জাটকা বেচাকেনার এক বড় কেন্দ্র হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে প্রকাশ্যে চলছে ছোট আকারের ইলিশ (জাটকা) কেনাবেচা, অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রলারভর্তি মাছ আসছে এবং সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই জাটকা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব মাছ প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আসামি সানি’র নেতৃত্বেই এই ঘাটের একটি অংশ পরিচালিত হচ্ছে। তার ছত্রছায়ায় মুন্সীগঞ্জের রশিদ ও মজিবুর নামে দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জাটকা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
একাধিক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে মাছ ধরি, কিন্তু এই সিন্ডিকেটের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তারা জাটকা ধরে বাজার ভরে ফেলছে, ফলে বড় মাছের দামও কমে যাচ্ছে।” মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাটে প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এর পেছনে রয়েছে অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করার সংস্কৃতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অবিলম্বে অভিযান জোরদার করে এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে নারায়ণগঞ্জ ৩ নম্বর মাছ ঘাটকে অবৈধ কর্মকাণ্ডমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
