নারায়ণগঞ্জের আলোচিত মাদক সম্রাট ও আওয়ামী দোসরদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে জেলা ও থানা কৃষক দলের কমিটিগুলো। বিএনপির তৃনমুলের ত্যাগী নেতাদের পরিবর্তে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে মাদক সম্রাট ও আওয়ামী দোসর নিয়ে কমিটিগুলো দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা কৃষক দলের আহবায়ক ডা: মো.শাহীন মিয়া এবং সদস্য সচিব মো.আলম মিয়ার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায় মো.ইদ্রিস আলী প্রধান। যিনি বক্তাবলী ইউনিয়নের একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। একাধিক সুত্রে জানা যায় যে,জেলা কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে তিন লাখ টাকা বিনিময়ে নাকি এ পদটি লুফে নিয়েছেন চিহিৃত এ মাদক ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী প্রধান। অপরদিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ডা: শাহীন মিয়া এবং সদস্যসচিব মো.আলম মিয়া স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে ফতুল্লা থানা কৃষকদলের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেন। সেই ঘোষিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পদটি পান শহর ও শহরতলীর অন্যতম চিহিৃত মাদক সম্রাট মো.ইব্রাহিম। গত ২১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা কৃষক দলের ৪০ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষনা দেন জেলা কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব। সেই কমিটিতে মো.মেহেদী হাসান পাভেলকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়।
যিনি সোনারগাঁয়ে যুবলীগের রাজনীতিতে সর্ম্পৃক্ত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির তৃনমুলের অনেক নেতাকর্মী জানান, বিএনপির এ অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কমিটিগুলো মুলত টাকা উপর নির্ভরশীল হয়েই দেয়া হচ্ছে। এখানে ত্যাগী শব্দ বলতে কোন কিছুই নেই। মাদক ব্যবসায়ী,চাদাঁবাজ কিংবা আওয়ামী দোসর যাই হোক না কেন জেলা আহবায়ক ডা: শাহীন মিয়া ও সদস্যসচিব মো.আলম মিয়া টাকার কাছে নতজানু হয়েই বিতর্কিত মানুষ দিয়ে কমিটি গঠন দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করছেন। ডা:শাহীন ও আলম টাকার বিনিময়ে অপরাধীদের দলে ভিড়িয়ে দলকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তারা আরও বলেন,বক্তাবলীর মাদক ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী প্রধানের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা বিনিময়ে মুল দলের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়কের পদটি দিয়েছেন। অপরদিকে শহর ও শহরতলীর আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বিটুর অন্যতম সহযোদ্ধা একাধিক মাদক মামলার আসামী মো.ইব্রাহিমকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে নাকি ফতুল্লা থানা কৃষকদলের আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পদটি দেয়া হয়েছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে পুরো ফতুল্লার প্রতিটি এলাকাতে। মুলত মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহিমের টাকায় নাকি থানা কৃষক দলের আহবায়ক কমিটি আনা হয়েছে। তবে সদ্য ঘোষিত
এ কমিটিগুলো কিভাবে মাদক সম্রাট ও আওয়ামী দোসরদের স্থান হয় তা নিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষন। তৃনমুলের নেতাকর্মীদের দাবী টাকার বিনিময়ে দেয়া কমিটিগুলোতে মাদক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী দোসরদের স্থান দিয়ে শুধুমাত্র দল নয় পুরো দেশের জন্যই ক্ষতি হয়ে দাড়াবে। একদিকে আওয়ামী দোসররা টাকা বিনিময়ে বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনের প্রবেশ করে তাদের দলকে সুসংগঠিত করতে পারবে। শীর্ষ এ মাদক বিক্রিতারা দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতে মাদকের বীজ বোপন করে পুরো যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান,দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার ইসমাইলের ছেলে মো.ইব্রাহিম। শহর ও শহরতলীর মধ্যে অন্যতম এক মাদকের অঘোষিত রাজা। বিগত সময় সে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের হাতে একাধিকবার মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিলো। তার নামে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। ২০১৮ সালে নিজ বাড়ির সামনে থেকে ২০০পিস ইয়াবাসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়েছিলো এ ইব্রাহিম। এ বিষয়ে জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ডা:শাহীন এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অত্র প্রতিবেদককে বলেন, এ বিষয়ে আপনি আমাকে কেন ফোন দিয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকে ফোন দেন। আওয়ামী দোসর ও মাদক ব্যবসায়ীদেরকে পুর্নবাসনের জন্যই কি কৃষক দলের কমিটিগুলো দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করার হলে তিনি উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বিএনপির তৃনমুলের দাবী,ডা: শাহীন ও আলমদের কাছে টাকা অনেক মুল্যবান। টাকার জন্য তারা কৃষকদল তথা বিএনপির বারোটা বাজাতে কোন দ্বিধাবোধ করবেনা। সে কারনেই তারা মাদা ব্যবসায়ী ও আওয়ামী দোসর নিয়ে থানা কৃষকদলের কমিটিগুলো প্রদান করছে। তারা কৃষকদলের জেলা ও থানা কমিটিগুলো থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী দোসরদের বাদ দিতে এবং জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
