মশার সীমাহীন উৎপাতে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার উপক্রম দেশবাসীর। গেলো এক মাসেই মশা বেড়েছে ৪০ শতাংশ, আর তাতেই নাজেহাল জনজীবন। এ অবস্থায় দ্রুত নিধন কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিলেন নতুন দায়িত্বে বসা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরা। তবে, বাস্ততা মেনে লার্ভিসাইড দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরামর্শ কীটতত্ত্ব গবেষকদের। দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই এখন দিনের আলোতেও নেই স্বস্তি। ঘরে-বাইরে মশার উৎপাত, কামড়ে অতিষ্ঠ দেশের মানুষ। মশার এ উপদ্রব এখন রাজধানী ও এর আশেপাশের জনজীবনের তিক্ত বাস্তবতা। সারাদেশ জুড়ে বাড়ছে প্রকোপ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কাও।
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় মশার ঘনত্ব বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির, যারা মূলত নর্দমা ও দূষিত পানিতে বংশবিস্তার করে। সমন্বিত ও ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি যার বড় কারণ, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বিভিন্ন জায়গার বদ্ধ ডোবা-নর্দমার যে পানিগুলো আছে, সেগুলোর উপরে যে ভাসমান জলজ উদ্ভিদ থাকে তা মরে-পচে পানিগুলো ঘন হয়ে গেছে আর তাই এতে মশার জন্য প্রচুর খাবার তৈরি হয়েছে। এসব ড্রেন, ডোবা-নর্দমাগুলোতে পানি আটকে থাকার কারণে প্রচুর কিউলেক্স মশার লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা বেরিয়ে আসছে। শুধু মশক নিধনে ধোঁয়া নয়, লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও উৎস ধ্বংসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরামর্শ এ কীটতত্ত্ববিদের। ড. কবিরুল বাশার আরও বলেন, ড্রেন, ডোবা-নর্দমাগুলো পরিস্কার করে যে জলজ উদ্ভিদগুলো রয়েছে সেসবকে পরিস্কার করে সেখানে লার্ভিসেট প্রয়োগ করতে হবে। কারণ লার্ভিসেট ছাড়া এ মুহুর্তে শুধু ফোগিং দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রন করা সহজ হবে না। এদিকে দায়িত্ব নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ও কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা।
নারায়ণগঞ্জের ঘরে বাইরে কোথাও এখন মশার উৎপাত থেকে রেহাই মিলছে না। দিনের বেলায়ও স্বস্তি মিলছে না মানুষের। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর খোলা জায়গায় দাঁড়ানোরও কোনো উপায় থাকছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামনে বর্ষা মৌসুমে মশার উৎপাত আরও বাড়বে। মশক নিধনে এখন থেকেই সিটি করপোরেশনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নতুবা মশার কামড়ে আক্রান্তদের ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানান জটিল রোগে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দারা মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। দিনরাত চলছে মশার উপদ্রব। দিনের বেলা কয়েল জ্বালিয়েও নিস্তার পাচ্ছেন না এই এলাকার মানুষ। এ নিয়ে দারুণ ক্ষুব্ধ সিদ্ধিরগঞ্জের ১০ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
মশার কামড়ে জর্জরিত মানুষ: ‘সকালে দোকান খোলা থেকে রাতে বন্ধ করা পর্যন্ত শরীরে মনে হয় ১ হাজার মশা কামড়িয়েছে। মশার অত্যাচারে পায়ে মোজা পরে থাকি। তবু হাতে মুখে কামড়ে লাল গুটি গুটি করে দিয়েছে। কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট কিছুতেই বাগে আসছে না মশা। দোকানে তো আর মশারি খাটিয়ে বসে থাকতে পারি না।’ গামছা নাড়িয়ে মশা তাড়াতে তাড়াতে কথাগুলো বলছিলেন মহাখালীর আমতলী কাঁচাবাজারের দোকানি ইসমাইল হোসেন।
মশার কামড়ে জর্জরিত দেশের মানুষ। শহর, নগর, বন্দরে দিনে-রাতে মানুষকে কামড়াচ্ছে মশা। কিউলেক্স মশার বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই নীরবে প্রাণ কাড়ছে ডেঙ্গু। মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় খাল-বিল-ডোবায় বংশ বিস্তার করা কিউলেক্স মশার অত্যাচারে প্রশ্ন উঠছে মশার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে। তাই ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে সরেজমিন মাঠে নেমেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিউলেক্স মশা ভয়াবহভাবে বেড়েছে এটা সত্য। এ নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরই আমরা কীভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে পারি, সে ব্যাপারে তৎপর হয়েছি। এখানে এসেছি ওষুধের গুণগত মান দেখার জন্য। পুরোদমে ওষুধ ছিটানো শুরু হবে। মশা ও লার্ভা নিধন করার ওষুধের স্যাম্পল নিয়েছি পরীক্ষা করার জন্য।
সম্প্রতি রাজধানীর সায়েদাবাদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুুস সালাম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, খালগুলোতে স্প্রে করার জন্য স্পিডবোটের ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছি। জলে-স্থলে মশা নিধনে ব্যাপক পরিসরে কাজ শুরু করব। জনগণের কাছ থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন। টবের পানি, পরিত্যক্ত টায়ার এগুলো এডিস মশার জন্মস্থান। বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এ ছাড়া মিরপুর-২-এ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশক নিধন ওষুধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
মশক নিধনে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নগরের বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, মশার প্রকোপ এখন প্রতিদিনই বাড়বে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বাড়তে থাকবে। তাই এ পরিস্থিতিতে কিউলেক্স মশার বংশবিস্তার কমাতে ড্রেন, ডোবা, নালা, খাল পরিষ্কার করে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এডিস ও কিউলেক্স মশার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আলাদা। তাই দুই ধরনের মশাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সমন্বিত বিজ্ঞানভিত্তিক মশক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকার প্রায় ৮০ শতাংশ এডিস মশার জন্ম হয় তিন জায়গায়। নির্মাণাধীন ভবনের পানি জমে থাকা মেঝেতে ৪৭, বাড়ির নিচতলায় ১৭ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ১৫ শতাংশ এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এ জায়গাগুলো নির্দিষ্ট করে মশার ওষুধ ছিটাতে হবে। এটাকে বলা হয় টার্গেট স্পেসিফিক মসকুইটো কন্ট্রোল। পরিকল্পনা করে কাজ করলে মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও খবর-
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ জেলার ৬টি পৌর এলাকায় মশক নিধন কর্মীদের তেমন একটা দেখা যায় না। এ কারণে হঠাৎ মশার উৎপাত বেড়ে গেছে। কোন কোন এলাকায় জনজীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জানুয়ারী মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা প্রায় ৩০% বেড়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে মশার ৮০ শতাংশই কিউলেক্স। মার্চে মশার পরিমান আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। মশার উপদ্রবে শুধু ঘুমের ব্যাঘাতই হচ্ছে না। ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। দিনের বেলা ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই মশারি টানিয়ে পড়াশুনা করে। ইফতার-সাহরীর সময় রোজাদারগণ মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন। জেলায় মশার যন্ত্রণা অসহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নর্দমা ও খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না। নর্দমাগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে নোংরা পানি জমে রয়েছে।
নড়াইল: নড়াইলে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। দিনদিন মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। দিনের বেলায় মশার উপদ্রব কিছুটা কম থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এ উপদ্রব আরও বৃদ্ধি পায়। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালত সব জায়গায়ই মশার দাপট লক্ষ করা যায়। মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে দিনরাতে কয়েল জ্বালাতে ও মশারি খাটাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।
মেহেরপুর: শুধু বসতঘর, বাড়ি কিংবা অফিস-আদালত নয়; মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এখন চলতি পথের মানুষও। সন্ধ্যা নামলেই মশার রাজত্ব শুরু হয় শহরজুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বর্ষা সামনে রেখে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরে দিনদিন মশার উপদ্রব বাড়লেও কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বৃষ্টির মৌসুম কেন্দ্র করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভও বাড়ছে।
বাগেরহাট: বাগেরহাটে মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ শহরবাসী। পৌরসভায় কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় ৭ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ জেলা শহরটির ১২৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ৮৮ কিলোমিটার ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এখন তা মশক উৎপাদন খামারে পরিণত হয়েছে। ফলে মশার জ্বালায় নয়টি ওয়ার্ডের ৩১ মহল্লার প্রায় ৮০ হাজার মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, এডিস মশার সংক্রমণে গত আট মাসে ২৫৬ জন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে বিগত বছরগুলোর চেয়ে চলতি বছর মশার উপদ্রব অনেকটা বেড়েছে। বিশেষ করে সদর, নাগেশ্বরী ও উলিপুর উপজেলার তিন পৌরসভায় মশার বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় শহরবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মশা উৎপাদনের জন্য তারা মূলত দায়ী করছে জলাবদ্ধতা, নালা-ডোবায় পচা পানি জমে থাকাকে। পুকুর-খাল-নালা ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে জানান অনেকেই।
গাজীপুর: গাজীপুরে মশার উপদ্রব মারাত্মক বেড়েছে। কিউলেক্স মশার উপদ্রবে গাজীপুর নগরবাসী অতিষ্ঠ। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, মশা নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করে যাচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জ জেলাজুড়ে বেড়ে চলেছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামলেই শহর থেকে গ্রাম সবখানেই মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। কয়েল, স্প্রে, মশারি সব ব্যবহার করেও রেহাই মিলছে না। জেলা শহর, সদর, গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার প্রায় সব এলাকায়ই মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অফিস-আদালত, মসজিদ-মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রায় সব জায়গায় মশার রাজত্ব। ড্রেনেজব্যবস্থার বেহাল অবস্থা, অপরিষ্কার নালা-নর্দমা, জমে থাকা ময়লা পানি ও অব্যবস্থাপনায় মশার বংশবিস্তার বেড়েই চলেছে।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ীতে মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ মানুষ। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপ, ড্রেনের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত নিধন কার্যক্রমের অভাবে মশার উপদ্রব বেড়েছে। পৌরসভার বাসিন্দা জয়নাল আহম্মেদ বলেন, রাজবাড়ীতে এ বছর মশক নিধনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। মশার উপদ্রব অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ইফতারের সময় কয়েল না জ্বালিয়ে বসা যায় না। চারপাশে মশার ভোঁ-ভোঁ শব্দ। আমরা একপ্রকার অতিষ্ঠ। রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, শহর থেকে গ্রামে মশার উৎপাত বেড়েছে। মানুষের জ¦র এলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হচ্ছে। রাজবাড়ী পৌরসভার মধ্যে মশার উৎপাত অনেক বেশি। দ্রুত পৌর কর্তৃপক্ষকে মশক নিধন অভিযান কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
পটুয়াখালী: পটুয়াখালী পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পৌর এলাকার ৩, ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। নিবিড় ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় পানি চলাচলে বাধা পেয়ে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেশি দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভার কিছু এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় মশার উপদ্রব দেখা দেওয়ায় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ নামকাওয়াস্তে মশা নিধনের ওষুধ ছিটিয়ে ক্ষান্ত। এর মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বৃহত্তর সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দারা রয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্কে। কারণ বিগত দিনে শুধু সবুজবাগেই শিশু, গৃহিণীসহ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অন্তত পাঁচজন। পটুয়াখালী পৌর এলাকায় গত এক বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৫ শতাধিক মানুষ।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনরাত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী। আবর্জনার স্তুপ, জমে থাকা পানি ও অপরিষ্কার নালাকে মশা বিস্তারের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। নগরের বিভিন্ন মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্থানে ড্রেন ও নালায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। কোথাও কোথাও পানি ও বর্জ্য জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে, যা মশার প্রজননের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। বাসিন্দারা জানান, এখন মশা শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাও ব্যাপকভাবে কামড়াচ্ছে। ফলে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে।
রংপুর: রংপুর মহানগরের মানুষ মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। বিশেষ করে মহানগরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামাসুন্দরী ও ক্যাডি খালে মশার বংশবিস্তার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, এবার মশক নিধনে ব্যাপক কর্মসূূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার লিটার ওষুধ আনা হয়েছে। ৮০টি নতুন ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৬টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনও কেনা হয়েছে। রোজার পরই পুরোপুরি মশক নিধন অভিযান চলবে।
রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীজুড়ে মশার উৎপাত ভয়াবহভাবে বেড়ে উঠেছে। ঘর থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষসহ সর্বত্র মশার বিচরণ। সন্ধ্যার পর উৎপাত আরও বেড়ে যায়। মশার জন্য বসা যায় না। এ পরিস্থিতিতে মশার কয়েল, অ্যারোসলসহ বিভিন্ন উপায়ে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে মানুষ। রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানান, তাদের মশক নিধন অভিযান শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। চলে মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু এবার এখনো শুরু হয়নি। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হয়। এ ছাড়া একদিন কেন্দ্রীয়ভাবে মহানগরীর বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি অফিস, শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ফগার মেশিন দিয়ে কীটনাশক ছিটানো হয়। তবে এত কিছু করার পরও মশার উৎপাত কমেনি।
নীলফামারী: নীলফামারী পৌর এলাকার সর্বত্র আশঙ্কাজনক হারে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। মশার কামড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দূষিত বর্জ্য, ড্রেনে জমে থাকা নোংরা পানি এবং যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মশার উৎপাত বেড়ে যায়। কয়েল, স্প্রে কোনোটিই মশা তাড়াতে কাজে আসে না। এদিকে পৌর এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষের মশক নিধনের কথা থাকলেও দেখা মিলছে না কোনো কার্যক্রম।
বগুড়া: মশার কামড়ে অতিষ্ঠ বগুড়াবাসী। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এর উপদ্রব আরও বাড়তে থাকে। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সর্বত্রই মশার উপদ্রব। দিনে-রাতে কয়েল জ্বালিয়ে, মশারি খাটিয়েও নিস্তার মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার অনেককে দিনের বেলায়ও মশারি খাটিয়ে ঘুমাতে দেখা যাচ্ছে। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, দুই সপ্তাহে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে বাড়িতে কয়েল, ব্যাট কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছাড়া অধিকাংশ এলাকায় মশার ওষুধ প্রয়োগ দেখতে পাচ্ছেন না তারা। অনেক এলাকায় বছরে মাত্র একবার বা দুবার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় কয়েক দিন যাবৎ মশার উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এখানকার সাধারণ লোকজন। বিশেষ করে পৌর এলাকার নালা ও বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনার স্তুপগুলোতে মশার বেশি উৎপাত লক্ষ করা যাচ্ছে।
দিনাজপুর: দিনাজপুরের সর্বত্র মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন। আগে যেখানে শুধু রাতে মশার উৎপাত দেখা যেত, এখন দিনেও সমানভাবে মশার আক্রমণ হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন, নর্দমা ও জলাবদ্ধ স্থানে সঠিকভাবে জীবাণুনাশক না ছিটানোর কারণে এ পরিস্থিতি বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরের কিছু এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হলেও প্রত্যন্ত এলাকার ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মাঝে ওষুধ ছিটানো হয়। ওষুধ ছিটানো হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশা প্রজননের মতো অনেক উর্বর স্থান বিদ্যমান। আছে নালা-নর্দমা ও ড্রেন ভর্তি বর্জ্য। এখানেও উৎপাদন হয় মশা। ফলে কর্মসূচির আশানুরূপ ফল মিলছে না।
সিলেট: সিলেট মহানগরের প্রধান সমস্যা মশা। দিনরাত সমানভাবেই মশার যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। মশার কাছে শুধু নগরবাসীই নয়, খোদ নগরভবন কর্তৃপক্ষই যেন অসহায়। দীর্ঘদিন ধরে মশক নিধনে কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিনদিন মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, দায়িত্ব নিয়েই মশক নিধনে কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
