ইতিহাস-ঐতিহ্যের দেয়াল ভেঙে নারায়ণগঞ্জ শহরে জন্ম নিলো মহান নেতা যার কিনা দেখতে ছোট, হাটে দ্রুত আবার অবিকল উকিলের মতো। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন“যে মানুষ ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতার দোরগোড়ায় বসে চাটুকারিতা করেছে, সে হঠাৎ করে কীভাবে জনগণের ত্রাণকর্তা হয়ে উঠলো?। শুরুতে কয়েক দফা স্লোগান, তারপর হাতে বড় হাতুড়ি আর শাবল। কিছুক্ষণ পর হাজির হলো ইয়া বড় বস্তু। ভেঙ্গে-গুঁড়িয়ে দেওয়ার শব্দে শহর আতংক হয়ে উঠলো। এই নতুন নেতার কর্মকান্ড দেখে বাইরে দাঁড়িয়ে সমর্থকরা হাততালি দিলেন, কেউ ভিডিও তুললেন যেন এটা কোনো নাটকের দৃশ্য। যে নেতা আজ হাতে হাতুড়ি তুলে কয়েকটা বসতি ও বস্তুগুলি ভাঙ্গেছেন, তাঁর অতীত মোটেও গোপন নয়। শহরের সবাই জানে, স্বৈয়রা শাসকের আমলে এই ব্যক্তির মূল পেশা ছিল চাটুকারিতা।মতার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে কখনো সন্ত্রাসীর পা চাটা, কখনো আবার ক্ষমতাবানদের বাড়িতে দিনের পর দিন আড্ডা দেওয়া এসবই ছিল তাঁর পরিচয়। সুবিধা নিতে গডফাদারের বাসার দরজায় যাওয়া, প্রশংসা করা, আবার দরকার হলে নীরবে মুখ গুঁজে থাকা সবই ছিল তাঁদের স্বভাব। এনজিওর নামে দোসরদের বাড়িতে বউকে পাঠাতো চাটুকারীতা করাতে। আজ সেই একই মানুষ হঠাৎ করেই নতুন পতাকা হাতে ‘জনতার নায়ক’। শহরের মানুষ তাই ঠাট্টা করে বলছে, চরিত্র বদলায়নি, বদলেছে শুধু পোস্টা তাদের ঘরের ভেতরেই নাটক এখন শহরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই নেতার ভাইদের কাহিনি।
ভাইদের দেখতে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো , যাই হোক নতুন নেতার ভাই একটি নতুন বিয়ে করেও বউকে প্রতারণা করে। বউয়ের সামনেই গৃহকর্মীর সঙ্গে অসঙ্গত আচরণ করে। আর এই বিষয় ডাকতে নতুন বউকে হেনাস্তা করার সিদ্ধান্ত নেই মিঠুন চক্রবর্তীর অনুশারীরা। আর তাদের এসব বিষয় নিয়ে শহরজুড়ে হাসাহাসি চলেছে ব্যাপক হাড়ে। তবে এখানেই শেষ নয়। নেতার একটি ওয়েব পোর্টাল ছিলো এবং এই পোর্টালে পরিচালনার জন্য একটি সাংবাদিক কর্মীর রাখেন কিন্তু কোনো দিন ঐকর্মীর বেতন পরিষদ করেনি হাতুড়ি নেতা। বেতন মাসের পর মাস আটকে রাখায় জমে যায় প্রায় ২ লক্ষ টাকার মতো আর নেতা সেই টাকা দিতে পারছিলো না। সংবাদকর্মী বেতনের বদলে নেতার ল্যাপটপ নিয়ে আসে আর নেতা পরের দিন লেপটপটি কেড়ে নেই আর এই ঘটনাও লোকমুখে প্রচলিত। নেতা যেই সংবাদকর্মীকে নিয়েছিলো কাজের জন্য তাকে দেখতে একেবারে হিরার টুকরার মতো। নেতার এমন দুরব্যবহার ও কর্মীর কষ্টার্জিত জিনিস ছিনিয়ে নেওয়াকে কেউ কেউ বলছে “বিপ্লবী দাননীতি। শহরের সাধারণ মানুষ বলছে, যার ঘরের ভেতর এত নোংরামি, তাকে উচু স্থানে বা বড় বড় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মানায় না। অন্যদিকে নতুন নেতা নিজেকে বড় মাপের বানাতে নানাবিদ ভাঙচুর চালাই আর সেই সময় বাইরে নেতার কর্মীরা দাঁড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করছিলেন।
কেউ হাততালি দিচ্ছিলেন, কেউ সেলফি তুলছিলেন। তবে একদল মানুষ হাসাহাসি করে বলছিলেন। যারা ঘরে ঘরে কেলেঙ্কারির নায়ক, তারা আজ রাস্তায় এসে ভাঙাভাঙিতে মহাবীর হয়ে গেছে। জনগণও মজা পাচ্ছে, কারণ রাজনীতি এখন নাটক। স্থানীয়রা বলছেন, এই শহরে একই মুখ বহুবার ভিন্ন রঙে হাজির হয়েছে। কখনো ক্ষমতাসীন দলের অনুগত সৈনিক, কখনো আবার বিরোধী দলের বীর যোদ্ধা। আসলে চরিত্র বদলায়নি, কেবল ক্ষমতার সাথে তাল মিলিয়ে মুখোশ পাল্টেছে। এক প্রবীণ বাসিন্দা কটাক্ষ করে বলেন, আগে ওরা স্যালুট দিত অন্যদের, এখন স্যালুট নিচ্ছে নিজেদের নামে। আসলে এরা শুধু ক্ষমতার সাথে মানিয়ে চলা পেশাদার নাট্যকর্মী। এক যুবক মন্তব্য করলো, ভাঙাভাঙি করে নায়ক সাজা যায়, কিন্তু মানুষ কখনো ভোলে না কে কেমন ছিল।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
