আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। এ ক’দিন দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র একাধিক প্রার্থী তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১দফা বাস্তবায়নের লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের প্রচারণায় মত্ত থাকলেও গত ২ নভেম্বর প্রাথমিকভাবে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় দলের অন্যান্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা অনেকটা চুপষে গেছেন। গত দু’দিন আগেও মনোনয়ন প্রত্যাশী সকল প্রার্থী-সমর্থকদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে সেই দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। কিছু কিছু নেতা-কর্মী ও সমর্থক ধানের শীষের প্রতীকের প্রতি সম্মান জানিয়ে মাসুদ শিবিরে প্রবেশ করলে দলের বৃহৎ একটি অংশ নিরব ভূমিকা পালণ করছে। বিশেষ করে অপর শিল্পপতি আবু জাফর আহমদ বাবুল এবং তিনবারের সাবেক এমপি এ্যাড.আবুল কালাম দলের প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ধানের শীষের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কেবল আবু জাফর আহমদ বাবুল এবং সাবেক এমপি এ্যাড.আবুল কালামই নন ক্ষুব্দ এ আসনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও তাদের সমর্থকরা। এ বিষয়ে বন্দর থানা বিএনপি’র একজন সিনিয়র ও ত্যাগী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারবো না, মার্কা দেখেই ভোট দিবো কিন্তু সাধারণ কর্মী-সমর্থকদেরকে কি জবাব দিবো? তাদেরকে কি বুঝাবো? তারাতো এ্যাড. আবুল কালামের নীতি আদর্শ ভালবাসেন। এ্যাড.আবুল কালাম প্রার্থী না হলে তাদেরকে ধরে রাখা মুশকিল হয়ে যাবে। এ্যাড. আবুল কালামের নিজস্ব একটা বলয় এবং বিশাল ভোট ব্যাংক আছে। ইদানীং আবু জাফর আহমদ বাবুল নির্বাচনী মাঠে যেভাবে সক্রিয় ছিলেন বন্দরের অনেক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে চলে এসেছেন,এখনতো আম ছালা দুইটাই চলে যাওয়ার উপক্রম। তাছাড়া সেলিম ওসমান এবং শামীম ওসমানের দোসর হিসেবে প্রচারিত হওয়ার বিষয়টি দলের মধ্যে বেশ চাউর হয়েছে। মাসুদুজ্জামান হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারেন কিন্তু হাজার হাজার ভোটের মালিকতো আবুল কালামের মতো ক্লিন ইমেজের নেতারা। যাদেরকে মাইনাস করে বন্দরে রাজনীতি করা খুবই দুঃসহ ব্যাপার। টাকা দিয়ে ভোটের আশা করা নিছক গুঁড়েবালি হবে। থানা বিএনপির অপরাপর নেতা একই শর্তে জানান,বিএনপির হাইকমান্ড ভুল সিদ্ধান্ত নিলে এর জন্য চরম খেসারত দিতে হতে পারে স্থানীয় বিএনপিকে। কেন না মাঠ পর্যায়ের জরিপ না করে কাউকে দলের মনোনয়ন দেয়া ঠিক হবে না। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাসুদুজ্জামানকে যদি চুড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় রাখা হয় তার আগে দলের কোন্দল আর বিভেদ দূর করতে হবে। খন্ড খন্ড দল গুছাতে না পারলে এ আসনটিতে বিএনপির ভরাডুবি নিশ্চিত হয়ে পড়বে। কেননা এই আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাল কোন প্রার্থী না থাকলেও হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাকসুদ হোসেন। গত উপজেলা নির্বাচনে মাকসুদ হোসেনের বিপক্ষে বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশীদের পক্ষ হয়ে জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী এমপি সেলিম ওসমান শক্ত অবস্থান নিলেও সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মাকসুদ হোসেন জয়লাভ করে বীরত্ব দেখিয়েছিলেন। মাকসুদ হোসেনের ওই বীরত্বের কারণে বন্দরের আপামর জন সাধারণ তার প্রতি অনেকটা পজেটিভই বলা চলে। সুতরাং বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন সঠিক এবং দলীয় কোন্দল মিটাতে না পারলে এই আসনে আগামী দিনে সংসদ সদস্য হওয়ার উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে হাজী মাকসুদ হোসেনের। জনশ্রুতি রয়েছে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর দলীয় কোন্দল মিটলেও এই আসনে মাকসুদ হোসেনকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনা অনেকটা বড় রকমের চ্যালেঞ্জও বটে। কাজেই এই আসন করায়ত্ব করতে হলে বিএনপিকে প্রথমতঃ তাদের ঘর গুছাতে হবে দ্বিতীয়তঃ দলের জন্য ক্লিন ইমেজধারী জনপ্রিয় ব্যক্তিতে প্রার্থী করতে হবে।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
