ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করেছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ। নির্বাচনের পর তাকে আইন বিচির ও সংসদ বিষয়ক পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে-এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শৈলকুপাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কবে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসবেন সে প্রশ্নেই এখন অপেক্ষায় দিন গুনছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
নির্বাচন ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় মোঃ আসাদুজ্জামান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১,৭১,৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫,৫৭৭ ভোট। এতে আসাদুজ্জামান মোট ১,১৬,০২১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। এই ব্যবধান ঝিনাইদহ-১ আসনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা, জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক—এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনের দিন অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফল ঘোষণার পর এলাকাজুড়ে আনন্দ মিছিল দেখা যায়। ঝিনাইদহ-১ আসনটি কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত। শৈলকুপার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জনপদে ধান,পাট, পেয়াজ, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো পরিবার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মন্ত্রীর সরাসরি তদারকি ও সমন্বয়ে কৃষি উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পৌর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, আমাদের এলাকার একজন সাধারণ ভাই, খুব সাধারণ একজন মানুষ আজ মন্ত্রী-এটা আমাদের গর্ব, তার কাছে যেতে আমাদের কোন অনুমতি লাগবে না, এটা ভাবতেই বুক ভরে যায়। আমরা চাই তিনি দ্রুত এসে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বসুন। কৃষক মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষায়, কৃষি খাতে যদি ভর্তুকি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান আসে, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আসাদুজ্জামান আসাদ ইতোমধ্যে দেশব্যাপী পরিচিতি অর্জন করেছেন। এখন শৈলকুপাবাসীর প্রত্যাশা-তিনি তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও কেন্দ্রীয় সংযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকায় নতুন কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আসবেন। বিশেষ করে আধুনিক সংরক্ষণাগার, কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সব মিলিয়ে শৈলকুপায় এখন একটাই প্রতীক্ষা-কবে আসবেন আমাদের মন্ত্রী, আমাদের ভাই? বিপুল ভোটের জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধির আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন ঝিনাইদহ-১ শৈলকুপা আসনের মানুষ। তাদের বিশ্বাস, জাতীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নেও তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
