নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে চরম বিরোধের জের ধরে তার অদৃশ্য ইশারায় ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি সহ জেল জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। তবুও এ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ দলটির অর্থদাতা হিসেবে অভিযোগ তুলে সর্বশেষ তাকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তার স্বজন সহ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সেলিম প্রধান কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ডিএমপি, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে নানা তথ্য ও প্রমাণাদি সরবরাহ করে অবহিত করেছেন। সেই সাথে মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। লিখিতভাবে বলা হয়েছে, সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়িয়ে পুনরায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে -সেলিম প্রধান নাকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তাকারী এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নির্দেশদাতা। সেলিম প্রধান আওয়ামী লীগসহ কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনদিন জড়িত ছিলেন না। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চার বছর কারাভোগ করেছেন। যদি তিনি সত্যিই ওই দলের ঘনিষ্ঠ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হতেন, তবে একই সরকারের আমলে তাকে কারাবরণ করতে হতো না। এতে প্রমাণ করে মামলার বিষয়টি ষড়যন্ত্রের একটি বড় অস্ত্র। তাছাড়া তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় অংশগ্রহণ করেছেন ও জুলাই বিপ্লবের পর আন্দোলনে হতাহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক মন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নানা জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন সেলিম প্রধান। একইভাবে তার ছেলে পাপ্পা গাজীর সাথে বিরোধা দেখা দেয় সেলিম প্রধানের। সেই থেকে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। পরে সাবেক মন্ত্রী গাজীর লোকজন সেলিম প্রধানের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেলে সাবেক মন্ত্রী গাজীকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়। তবে তার চেলা-চামুন্ডা ও গুপ্তচররা এখনো রয়েছে বহাল তবিয়তে। তারা এখনো পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য ছায়া কাজ করছে। অথচ বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতার ট্যাগ দিয়ে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করেছে যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে তার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার-বিশেষত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সেলিম প্রধানের স্ত্রী ও রাশিয়ান নাগরিক আনা প্রধান বলেন, সাবেক মন্ত্রী গাজী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে যাওয়ায় তৎকালীন সময়ে রূপগঞ্জের বাড়িঘরে ওরা হামলা চালায়। এখনো ঠিক তার লোকজন আমার স্বামী বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়েছেন। মূলত সাবেক মন্ত্রী গাজী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে যাওয়াই আমার স্বামী সেলিম প্রধানের জন্য কাল হয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের ও আসামিপক্ষের আইনজীবী সহিদুল ইসলাম বলেন, কিছু কুচক্রি মহল তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দিয়েছে। সিসা মামলায় তিনি জামিনে আছেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও দুটি রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। মূলত তার জামিন আটকানোর জন্য এমন অভিযোগে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বারিধারার নেক্সাস ক্যাফে প্লেস থেকে সিসা বার পরিচালনার অভিযোগে সেলিম প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই মামলায় তাকে জেলে প্রেরণ করা হয়। পরে ২০ অক্টোবর মাদকের মামলায় ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আফরোজা শিউলি সেলিম প্রধানের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক মামুন তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপর একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জেলে রয়েছেন।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
