নারায়ণগঞ্জ শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ও সিটি কর্পোরেশনের সামনের সড়কটি বর্তমানে অবৈধ হোন্ডা (মোটরসাইকেল) পার্কিংয়ের দখলে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মোটরসাইকেল পার্কিং করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশজুড়ে সারি সারি মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সড়কের একাংশ সম্পূর্ণ দখল হয়ে যায়, ফলে যানবাহন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। এতে করে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, যা ভোগান্তিতে ফেলছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সামনে এই অব্যবস্থাপনা চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত প্রবেশ বা বের হতে না পেরে মাঝপথেই আটকে পড়ছে। রোগীদের স্বজনদের মাঝেও এ নিয়ে দেখা যাচ্ছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীদের জন্য এই বিলম্ব মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের সামনের সড়ক হওয়া সত্ত্বেও এখানে নিয়ম-শৃঙ্খলার বালাই নেই বললেই চলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ পার্কিং সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে সড়কের জায়গা দখল করে মোটরসাইকেল পার্কিং করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পথচারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দোকানে ক্রেতাদের আসা-যাওয়া কমে গেছে, অনেক সময় যানজটের কারণে ক্রেতারা এ এলাকায় আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। ফলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ হোন্ডা পার্কিং উচ্ছেদ করে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন যদি যৌথভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করবে এবং জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
