ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আজ দেশজুড়ে
  4. আজকের সর্বশেষ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কৃষি সংবাদ
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্টগ্রাম
  10. চাকরি-বাকরি
  11. ছড়া-কবিতা
  12. জাতীয়
  13. জীবনযাপন
  14. ঢাকা
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫৮ লক্ষ ভিডিপি সদস্য আজও অবহেলিত

মিরাজুন্নবী
এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

॥ মিরাজুন্নবী ॥

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধীনে পরিচালিত গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) দেশের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা কাঠামোগুলোর একটি। প্রায় ৫৮ লক্ষ সদস্য নিয়ে গঠিত এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা, নির্বাচন পরিচালনা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নানামুখী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এই বিশাল জনবল আজও কাঠামোগত অবহেলা, অনিয়ম এবং দীর্ঘদিনের অপরাজনীতির শিকার হয়ে পড়ে আছে। ভিডিপি সদস্যদের অধিকাংশই গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের তরুণ-তরুণী, যাদের একটি বড় অংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী। দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অবদান রাখার প্রত্যয়ে তারা এই বাহিনীতে যুক্ত হলেও বাস্তবে তারা পাচ্ছেন না ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা সম্মানজনক কর্মপরিবেশ।

একজন ভিডিপি সদস্য হতে হলে এসএসসি পাশসহ বিভিন্ন যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। এরপর উপজেলা পর্যায়ে আনসার কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হয়। প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে ২১ দিনের অস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং ১০ দিনের গ্রামভিত্তিক মৌলিক প্রশিক্ষণ। সবশেষে তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হন। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ভিডিপি সদস্যদের অধিকাংশই চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করেন। কাজ থাকলে অল্প কিছু পারিশ্রমিক, আর কাজ না থাকলে কোনো ধরনের আয় নেই। তাদের বেতন কাঠামো এতটাই অপ্রতুল যে তা অনেক ক্ষেত্রে দিনমজুরির সঙ্গেও তুলনীয়। প্লাটুন কমান্ডারদের মাসিক ভাতা প্রায় ৫২৫ টাকা এবং সাধারণ সদস্যদের ৪৭৫ টাকা, যার মধ্য থেকেও বিভিন্ন খাতে কর্তন করা হয়। এতে করে তাদের আর্থিক অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে।

দেশের যেকোনো সংকটে সামনে এগিয়ে আসে এই বাহিনী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, রেলওয়ে নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই তাদের উপস্থিতি দৃশ্যমান। দায়িত্ব পালনের সময় অনেক ভিডিপি সদস্য জীবনও দিয়েছেন। তবুও তাদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছেন না।

১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের গ্রাম পর্যায়ে স্বনির্ভরতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল গ্রামাঞ্চলে ডাকাতি নির্মূল, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে শহরাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) গঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দুই বাহিনীই আনসার বাহিনীর সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি বৃহৎ কাঠামোয় পরিণত হয়।

তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এই বাহিনীর কার্যক্রম বারবার সীমিত হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর নীতিগত অগ্রাধিকার তালিকায় এই বাহিনী কখনোই যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ফলে তাদের বেতন-ভাতা, স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ উন্নয়ন কিংবা আধুনিকায়নের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন উপেক্ষিত রয়ে গেছে। ভিডিপি সদস্যদের মতে, তারা আইন অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা এবং সরকারের নির্ধারিত যেকোনো দায়িত্ব পালনে বাধ্য। এমনকি প্রয়োজনে অস্ত্র বহন ও ব্যবহারেরও আইনি ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের সেই সক্ষমতা কাজে লাগানোর মতো পর্যাপ্ত সুযোগ বা কাঠামো তৈরি করা হয়নি।

সচেতন মহলের মতে, সঠিকভাবে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে পারলে এই ৫৮ লক্ষ সদস্য দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি শক্তিশালী সহায়ক বাহিনী হিসেবে কাজ করতে পারে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে, গ্রাম ও শহরে চুরি-ছিনতাই দমনে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের কার্যকরভাবে নিয়োজিত করা সম্ভব। একজন ভিডিপি সদস্যের ভাষায়, আমরা দেশের জন্য কাজ করি, মানুষের পাশে দাঁড়াই। কিন্তু আমাদের কষ্ট, আমাদের অধিকার কেউ দেখে না। আমরা শুধু চাই সম্মানজনক জীবন আর ন্যায্য প্রাপ্য। ৫৮ লক্ষ মানুষের এই বিশাল বাহিনীকে অবহেলার বাইরে এনে একটি সুসংগঠিত, আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর মধ্যে আনার দাবি এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ভিডিপি বাহিনীকে পুনর্গঠন করা গেলে তা দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য।

এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: