লোককবি আবদুল হাই মাশরেকীর জন্ম স্মরণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গুণীজনদের মিলনমেলা পরিণত হয় এক হৃদয়স্পর্শী স্মৃতিচারণ সভায়। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল কবির জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা, তাঁর লেখা গান পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি এবং স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য। সম্মিলিত সাহিত্য জোট এর আয়োজনে দৈনিক আজকের নীরবাংলা পত্রিকার কার্যালয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি হামিদ কাফি, ডা. মোঃ মিজানুর রহমান মোল্লা, মোঃ আফসার মামুন, ইয়াদী মাহমুদ, সুকুমার মন্ডল, আবুল কালাম আজাদ, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, ডা. বশির আহম্মেদ তুষার, তামিম ইকবাল, গাউস, নূরজাহান নীরা, সোবাহান মাসুদ, মোঃ বশির খান, মোঃ নঈম মাশরেকী, মিজান মাহমুধ, তৌহিদুল আবেদীন, নোমান আল কাদরীসহ আরও অনেকে। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয়। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, লোককবি আব্দুল হাই মাশরেকী ছিলেন বাংলার মাটি ও মানুষের কবি। তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছে কৃষকের ঘাম, শ্রমজীবী মানুষের বেদনা, প্রেমিকের আর্তি এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের বাস্তব চিত্র। তিনি তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে শুধু বিনোদনই দেননি, বরং সমাজের অসঙ্গতি, বৈষম্য এবং মানবিক মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরেছেন। তাই তিনি শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন এক সময়ের সমাজের দর্পণ। অনুষ্ঠানে কবির জনপ্রিয় গান “আল্লাহ্ মেঘ দে পানিদে ছায়া দেনা তুই” পরিবেশন করা হলে উপস্থিত শ্রোতারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। বক্তারা বলেন, এই গানটি শুধু একটি সংগীত নয়, এটি বাংলার কৃষকের হৃদয়ের ভাষা, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের এক অনন্য প্রকাশ। কবিপুত্র নাঈম মাশরেকী তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমার বাবা ছিলেন একজন সহজ-সরল মানুষ, কিন্তু তাঁর ভাবনা ছিল অসাধারণ গভীর। তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিজের মধ্যে ধারণ করতেন এবং তা শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। আজও তাঁর গান শুনলে মনে হয়, তিনি আমাদের মাঝেই আছেন। সভায় হামিদ কাফি বলেন, “আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন তাঁর মতো মানুষদের চিনতে পারে, তাঁদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তাঁর সৃষ্টি শুধু সংরক্ষণ করলেই হবে না, তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, জীবন্ত রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে কবি ইয়াদী মাহমুদ বলেন, লোকসংস্কৃতি ও লোকসাহিত্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা প্রয়োজন। কারণ, আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে গেলে আমরা আমাদের পরিচয় হারাবো। আব্দুল হাই মাশরেকীর মতো গুণীজনদের স্মরণ করার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করতে পারি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কবির জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে। পাশাপাশি তরুণ শিল্পীদের কণ্ঠে তাঁর গান পরিবেশন নতুন প্রজন্মের মাঝে এক নতুন আগ্রহের সঞ্চার করে। শেষপর্যায়ে কবির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে লোককবি আব্দুল হাই মাশরেকীর অবদানকে দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল একদিকে যেমন আবেগময়, অন্যদিকে তেমনি অনুপ্রেরণামূলক যেখানে এক মহান শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন যেমন ছিল, তেমনি ছিল নতুন প্রজন্মকে তাঁর পথ অনুসরণের আহ্বান।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
