একাধিকবার প্রচেষ্টায় পর ব্যর্থ হলেও অবশেষে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর আশীর্বাদে দলে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন আলোচিত দুই বিএনপি নেতা- রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ও মনিরুল আলম সেন্টু। তবুও নারায়ণগঞ্জ চার আসনের নির্বাচনী আলোচনায় এখনো পর্যন্ত জনমত জরিপে এগিয়ে আছে কিংমেকার খ্যাত বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হাতি প্রতীকের মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। সেই বিবেচনায় আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী খেজুর গাছ প্রতীকে মনির হোসাইন কাসেমীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
আজ মঙ্গলবার সকালে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়। এর আগে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকেও। সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে দল থেকে বহিষ্কার হন সেন্টু। পরে তিনি আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন এবং দলটির প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীকে ইউপি নির্বাচনেও অংশ নেন। ওই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হন মনিরুল আলম সেন্টু। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালেও বিএনপি-জামায়াতকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ফলে, গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আন্দোলনকালীন সময়ে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনার একাধিক মামলায় আসামিও হন তিনি। তবে, সরকার পতনের পর বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছিলেন সেন্টু। গত বছরের জানুয়ারিতে দলে ফেরার জন্য আবেদনও জানান। এই আবেদনের এক বছর পর গত ১ জানুয়ারি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় দল। পরদিনই আবার সেই আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, কুতুবপুরে মনিরুল আলম সেন্টুর জনপ্রিয়তা ও প্রভাব অনেক। ফলে, বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থীর আসনটিতে সেন্টুকে প্রচারণায় প্রয়োজন হবে। এ কারণে জোট-প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর চেষ্টা-তদবিরে দলে ফিরতে পেরেছেন এ বিএনপি নেতা। এমনকি সোমবার রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে আলাপ চালান মনির হোসাইন কাসেমী। তিনি তখন মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গটিও তোলেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। এর আগে কাসেমীর মাধ্যমে দলে ফেরেন জেলা বিএনপির সদস্য ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। গত বছরের ১৫ মে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির একটি ফোনালাপ ভাইরাল হবার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের সাতমাস পরে কাসেমীর অনুরোধে তাকে ফের দলে ফিরিয়ে নেয় বিএনপি। এই তদবিরের ফল পাচ্ছেন কাসেমী নিজেও। জোটের প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই এই দুই বিএনপি নেতার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পাচ্ছেন তিনি। তবে আসন্ন নির্বাচনে বর্তমান ফলই কাসেমীর জন্য কাল হয়ে দাড়াবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকবৃন্দ। এছাড়াও ধানের শীষের পরিচিতির বিপরীতে খেজুর গাছ কতটা সাধারন ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে সেই প্রশ্ন থেকেই যায় বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের সাধারন মানুষের মনে।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
