নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নাগরিকরা দীর্ঘ দুই মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা থেকে বঞ্চিত। ফলে নাগরিক সেবা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবিলম্বে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ,ওয়ারিশ, ট্রেড লাইসেন্স সহ বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন পরিষদে এসে কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে ব্যর্থ মনে ফিরে যেতে হচ্ছে।
এত করে বক্তাবলী চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানা যায়, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। তার অনুপস্থিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-০১(এক) আব্দুর রশিদ মেম্বার। আইনি জটিলতার কারণে আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন না করতে পারায় জেলা প্রশাসন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ইয়াসিন আরাফাত কে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি নিয়মিত বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে না এলেও তার উপজেলা অফিসে নিয়ে কাগজপত্র সই করে দিতেন। এতে কিছুটা হলেও নাগরিকরা সেবা পেতো। বর্তমানে দুই মাস ধরে কোন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা প্রশাসক না থাকায় এলাকাবাসীকে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা হতে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। নাগরিক সেবা পেতে আসা এক মহিলা নাম প্রকাশ না করার সত্বে বলেন, আমার মেয়ের জন্ম সনদের জন্য দুই মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আসা-যাওয়া করছি কিন্তু আজও পর্যন্ত জন্ম সনদ পাইনি।
ট্রেড লাইসেন্স করতে আসা আব্দুর রহমান বলেন, আমার জরুরী প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স দরকার কিন্তু দুই মাস ধরে আসা-যাওয়া করছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান না থাকায় আমি ট্রেড লাইসেন্স নিতে পাচ্ছিনা। একটি সূত্র হতে জানা যায়, প্যানেল চেয়ারম্যান-০১(এক) হিসেবে আব্দুর রশিদ দীর্ঘ ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে এসে সই করায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতায় রশিদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব শেষ হয়ে গেলেও নিয়ম মোতাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান- ০২(দুই) আলমগীর হোসেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবেন। তিনি কোন কারনে অযোগ্য হলে প্যানেল চেয়ারম্যান-০৩( তিন) পিংকি আক্তার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবেন। তারপরও রহস্যজনক কারনে কেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেওয়া হচ্ছে না এ প্রশ্ন তুলেছেন সাধারন মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, ২ নং প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন অত্যন্ত নর্ম ও ভদ্র। তিনি এলাকার সকল দল ও মতের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। এছাড়াও তিনি বেশিরভাগ সময়ে এলাকায় অবস্থান করায় এলাকার মানুষ সহজেই উপকৃত হবে। তাই তারা দেরী না করে ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালককে অনুরোধ জানান।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
