আমার লেখা অনেক আর্টিকেলে আমি ইতোপূর্বে বহুবার বলেছি যে- বাংলাদেশের রাজনীতি আদর্শ ভিত্তিক নহে, বরং ক্ষমতা ও ব্যক্তি কেন্দ্রীক। হাতে গোনা দুই-একটি দল ছাড়া প্রায় সব দলই ব্যক্তির প্রভাবে গড়ে উঠেছে এবং টিকে আছে সময়ে সময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার বদৌলতে। জিয়াউর রহমান ও এরশাদ ক্ষমতায় না থাকলে বি এন. পি ও জাতীয় পার্টি জন্ম নিতো না। এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঝিমিয়ে পড়া জাতীয় পার্টির শেষ রক্ষা হয়েছে ক্ষমতাশীন শেখ হাসিনার ছায়াতলে, যা এখন ছায়াবিহীন, ভাঙ্গা-চুরা অবস্থায় টালটলমান। অন্যদিকে বি.এন.পি প্রসারিত ও পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিচ্ছন্ন ও আপোষহীন নেতৃত্বের কারনে। এরশাদের রাজনীতি ছিল সকালে এক রকম- বিকেলে অন্য রকম। এজন্য জীবিত থাকতেই দলের ভাঙ্গন তিনি ঠেকাতে পারেন নাই।
যে যত কথাই বলুন না কেন পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রয়োজন ছিল, নতুবা ঔপনেবিশিক তগমা থেকে বাঙ্গালীরা মুক্তি পেতো না। দেশ স্বাধীন হওয়ায় বৈষম্য দুর হয় নাই বটে, তবে মানুষ কথা বলার সুযোগ পেয়েছে, যদিও স্বৈরাচার ও মব জাষ্টিসের জন্য বাক-স্বাধীনতা বরাবরই হুমকির মুখে। ড. ইউনুছ সরকার মব-জাষ্টিসকে উৎসাহিত করছেন, নাকি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন তা মোটা মাথায় বুঝা যাবে না, বরং গভীর চিন্তার প্রয়োজন, যা এদেশের আতেল বুদ্ধিজীবী সমাজই ভালো বুঝতে পারবেন।
শহীদ ওসমান বিন হাদীর জানাজায় দেশের প্রত্যন্ত এলাকার সর্বস্তরের জনগনের স্বতঃস্ফুর্ত যোগদান প্রমান করে যে, বস্তা পচাঁ রজানীতির পরিবর্তে জাতি এখন নতুন কিছু প্রত্যাশা করে। ইতোপূর্বে দেশ শাসন করা তিনটি রাজনৈতিক দল ও জামাতের চেয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সাংগঠিক মজবুতী বা অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী না হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে পারস্পারিক আন্তরিকতা, যা একটি বিপ্লবের মূলধন।
২৫শে ডিসেম্বর তারেক রহমানের সর্ম্ভধনা যা আধা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা এবং আধা দলীয় ব্যবস্থাপনায় হলেও স্মরন কালের এটাই একটি বৃহৎ থেকে বৃহত্তর সমাবেশ। এই সমাবেশ প্রমান করে জাতি তারেক রহমান থেকে প্রত্যাশা করে এবং সবকিছু ভেঙ্গে না বললেও দেশ পরিচালনায় তার একটি পরিকল্পনা আছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। আমি মনে করি- ১। গনতন্ত্র ২। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ৩। মব- জাষ্টিস এই ০৩টি বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান রাজনৈতিক সমস্যা। যিনি ক্ষমতায় থাকেন তিনি গনতন্ত্রের ব্যাখ্যা দেন এক ভাবে; একই ব্যক্তি বিরোধী দলে থাকলে এর ব্যাখ্যা দেন ভিন্ন ভাবে। রাষ্ট্রে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজ দলে গনতন্ত্রের অনুশীলন থাকা বাঞ্ছনীয়। গনতন্ত্রের প্রতি সম্মান তারেক রহমান কতটুকু দেখাবেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তার কর্মকান্ডই প্রমান দিবে। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মজ জাষ্টিসকে তিনি কি ভাবে ঐধহফবষ করবেন এবং এ নিয়ে তার গন গ্রহনযোগ্য কোন পরিকল্পনা যদি থাকে তবে “সময়ই” পরিষ্ফুটিত করবে।
সরকারী ভাষ্যমতে ৩০/১২/২০২৫ইং প্রত্যুষে তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে র্দীঘদিন চিকিৎসার পর মৃত্যু বরন করেন। ৩১/১২/২০২৫ইং দুপুরে মানিক মিয়া এ্যাভিনিউতে মহান নেত্রীর জানায়ায় উপস্থিত থেকে লক্ষ করেছি- তিনি পাহাড়সম আস্থায় জনগনের মাঝে ছিলেন বিরাজমান। জাতির এ ক্লান্তিলগ্নে দেশনেত্রীর চলে যাওয়া নেতৃত্বের শূণ্যতা ও সংকটের পথ প্রসারিত করবে বলে আমার ধারনা। স্বৈরাচার সরকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগ সম্মলিতভাবে তাকে নির্যাতন, নিপিড়ন ও কষ্ট দিয়েছে, তবে বিদায় লগ্নে মহান আল্লাহ দেশনেত্রীকে সম্মানীত করায় আল্লাহ পাকের ওয়াদা “কষ্টের সঙ্গে তো স্বস্তি আছে, অবশ্য কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে” (সূরা ইনশিরাহ, আয়াত ৫ ও ৬) আবারও প্রমানিত হলো।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক, যার সমকক্ষ নেতৃত্ব আজ পর্যন্ত গড়ে উঠেনি। আমি জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও যে কোন অগ্রাসন ও অধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই; সে সুবাধে বার বার কারাবরন ও রাজপথের গুলি খাওয়া একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে দেশনেত্রীকে আমি অনেক কাছ থেকে দেখার ও বুঝার সুযোগ আল্লাহ পাক আমাকে দিয়েছেন। ১/১১ সরকারের সময় জিয়া পরিবারকে ছেড়ে পালিয়ে বা সংস্কারে যাই নাই, এক সাথে জেল খেটেছি; যদিও সংস্কার পন্থীরা এখন দলে বহাল তবিয়তে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তারেক রহমান গ্রেফতার হলে কোর্টে মুভ করার সময় জঅই এর সাথে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ি এবং এক পর্যায়ে আমি নিজেও গ্রেফতার হয়ে ২৬ মাস কারাগারে ছিলাম। ২০২২ সনে বি.এন.পি’র মহাসচিব স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষনা না দিলে আমি মেয়র পদে নির্বাচন অবশ্যই করতাম না। তারপরও ২০১১ সালের মেয়র নির্বাচনের মত আমাকে টেলিফোনে নির্দেশ দিলেও আমি নির্বাচন থেকে সরে দাড়াতাম। এমর্মে বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বারবার অনায়াসে মেয়র হওয়ার সুযোগ করেছে, যার কারনে সিটি কর্পোরেশনের সুযোগ সুবিধা থেকে বি.এন.পি এর নেতা, কর্মী, সমর্থকরা ছিল বঞ্চিত। মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর থেকেই দেশনেত্রীর কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং জীবন যাত্রা শুরু হয়। তিনি ছিলেন এড়ফ এরভঃবফ (আল্লাহ্র প্রদত্ত) নেতৃত্বের অধিকারী; যার ফলে ধৈর্য্য, অদম্য সাহস ও ইস্পাত কঠিন মানসিকতার কারনে সকল বাধা অতিক্রম করে শত কোটি মানুষের হৃদয়ের আস্থার স্থান করে নিয়েছেন। মহা সচিবের দ্বায়িত্বহীনতা ও অভ্যন্তরীন কোন্দলে আমি দল থেকে বহিস্কৃত হওয়া স্বত্বেও দেশনেত্রীর প্রতি পূর্বেও শ্রদ্ধাশীল ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি বহিস্কার হওয়ার পর র্শীর্ষ নেতাদের দেশনেত্রী জিজ্ঞাসা করেছিলেন “ আমার তৈমূর কই? তাকে কেন বহিস্কার করলা, দলের প্রতি তার কি কোন অবদান নাই?” একথা আমি মিডিয়াতে দেখেছি ও শুনেছি।’ তাই সব সময় বলি “ আমার পিঠের চামড়া দিয়ে দেশনেত্রীর জুতা বানিয়ে দিলেও এ-ঋণ শোধ হবে না”। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমৃত্যু স্বৈরাচার সরকার দ্বারা অযাচিত ভাবে নির্যাতিত ও নিগৃহিত হয়েছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগ দেশনেত্রীর প্রতি সবচেয়ে বেশী অবিচার করে বিচার অঙ্গনে একটি জঘন্য নজীর স্থাপন করেছে। ইতোপূর্বে বিগত জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়া ঘোষিত নমিনেশনে বিরোধ বা বিক্ষোভ হয় নাই, বর্তমানে যা হচ্ছে।
জামায়েত ইসলামী ও বি.এন.পি একদল আরেক দলের প্রতি র্তীর্যক ভাষায় কথা বল্ ে অথচ বি.এন. পির কোলে উঠেই জামাত প্রসার লাভ করেছে। আওয়ামী লীগ ও বি.এন.পি এই দুই দলই জামায়েতকে ব্যবহার করতে জামাই আদরে লালন পালন করেছে। কিন্তু কৌশলে জামায়েত ইসলাম উল্টো এই বড় দুই দলকে ব্যবহার করে নিজেরা হয়েছে মহীরুহু। ২০১৮ইং নির্বাচনে দেশনেত্রীকে জেলে রেখে (শুনা যায় ১৭ পদের ব্যাঞ্জন গ্রাস করে) শেখ হাসিনার নেতেৃত্বেই বি.এন.পি ও শরীকরা নির্বাচনে গিয়েছিল, তৎসময়ে জামায়েত ইসলাম নিষিদ্ধ ও দাড়িপাল্লা প্রতীক না থাকায় ধানের শীষ মার্কা নিয়ে জামায়েত ইসলামকে ২৫টি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতার সুযোগ বি.এন.পি দিয়েছিল। একথা জামায়েত নিশ্চয় ভুলে গেছে বলেই এখন চাঁদাবাজী সহ বি.এন.পির বিভিন্ন খুত/ভুল জন সম্মুখে তুলে ধরছে। অন্যদিকে ১৯৭১সনে জামায়েতের ভূমিকা কি ছিল- তা নিয়ে বি.এন.পি-র মন্তব্য এখন ধোপে টিকবে না, কারন বি.এন.পি -ই জামায়েতকে মন্ত্রী সভায় অন্তভূর্ক্ত করে স্বাধীন বাংলাদশের জাতীয় পতাকা সম্মলিত গাড়ী বাড়ী ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুলের মাশুল দিচ্ছে এখন গোটা আওয়ামী লীগ পরিবার। আমার দৃষ্টিতে তার (প্রধানমন্ত্রী) বোকামী বা আত্মঅহংকারে জাতিকে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার দুই শ্রেনীতে বিভক্ত করে উরারফব ্ জঁষব ব্রিটিশ নীতি অবলম্বনে দেশ শাসন করতে চেয়ে ছিলেন; যা ছিল তার সোনালী ভাগ্যের প্রতি বুমেরাং। যারা দেশ স্বাধীনতার বিরোধীতা করে ছিল তাদের ফাঁসি হয়েছে, কারবরন করেছে, বা স্বাভাবিক মৃত্যুবরন করেছে; ফলে বাকী এই ক্ষুদ্র অংশকে প্রতিপক্ষ বানানো ছিল বিদায়ি প্রধানমন্ত্রীর আত্মঅহংকারের বহি প্রকাশ। আত্মঅহংকারে ওবায়দুল কাদের বলেন- “আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি (ঝযড়ড়ঃ ধঃ ঝরমযঃ)”; এখন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন- “আওয়ামী লীগ দেখা মাত্র গ্রেফতার”। এ যদি চলতে থাকে তবে আইনের শাসন থাকে কোথায়? আইনকে যার যার পকেটস্থ করলেতো আর জাতির কল্যান হবে না। এজন্যই কি ৫ই আগষ্ট হয়েছিল? আওয়ামী লীগ আমলের গায়েবী মোকদ্দমা এবং ড. ইউনূছ আমলের মামলা বানিজ্য একই সূত্রে গাথা। যার মূল উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষের উপর প্রতিশোধ। আওয়ামী দোষীদের বিচার অবশ্যই চাই, কিন্তু শুধু মাত্র দল করার কারনে নির্দোষ ব্যক্তি অকাতারে গ্রেফতার হবে কেন? তবে আসন্ন নির্বাচন কি শেখ হাসিনার স্টাইলেই হবে?
বাংলাদেশের রাজনীতিকে যে যেই ভাবে রংঙায়িত করুক না কেন- এদেশ স্বাধীনতার পক্ষে, জনগন ধর্মভীরু তবে ভারতের উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের মত সাম্প্রদায়িক নয়। ভারতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং সীমান্তে অকাতারে মানুষ হত্যা আওয়ামী লীগসহ কোন সরকারই বন্ধ করতে পারে নাই, তবে এমর্মে ইউনূছ সরকারের কোন উদ্দ্যেগ দৃশ্যমান নহে।
আর্টিকেলটির প্রারম্ভেই বলেছি, বাংলাদেশের রাজনীতি আদর্শিক নয় বরং ক্ষমতা কেন্দ্রীক; আর রাজনৈতিক দল হলো এমপি ভিত্তিক। দল ক্ষমতায় গেলে র্শীর্ষ নেতারা শুধু এমপি চিনে, কর্মী চিনে না। ফলে লোটাবাটী বিক্রি করে হলেও সকলেই এম.পি হতে চায়। আর চাইবে না কেন? কারন স্কুলের সুইপার/দপ্তরী নিয়োগ, হাটবাজারের তোলা, টেম্পুষ্টেন্ডের চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সকল কিছুই এম.পি ও তার আজ্ঞাবহ পি.এ/পিএস দের নিয়ন্ত্রনে; ফলে আদর্শ ও নীতিবাক্য শুধু বক্তৃতার মঞ্চে, নির্বাচনী ম্যানিফেষ্টোতে ও দলের গঠনতন্ত্রে লেখা থাকে; বাস্তবে যার কোন মিল বা সংগতি নাই। পাকিস্তান থেকে শুরু করে ৭৭ বৎসরে যা ঘটে নাই, এবার রাজনীতিবিদরা এম.পি হওয়ার জন্য তাই করলো। নিজ দলকে বিলুপ্ত করে এম.পি হওয়ার জন্য বড় দলে যোগ দিয়ে টিকেট নিয়েছে। অনেকে বড় দল বি.এন.পির সাথে আসন সমঝোতা করেছে। আসন সমঝোতা একটি রাজনৈতিক ট্রেডিশন যা পৃথিবীর প্রায়ই গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই আছে। কিন্তু নিজের অস্তিত্ব বিলিয়ে বড় দলের টিকেট নেয়ার জন্য নিজ দলকে বিলুপ্তির ঘটনা এটাই হয়তো প্রথম আলোচনা। এম.পি হওয়ার জন্য নিজ দলকে হত্যা ও টিকেট দিয়ে হত্যাকে উৎসাহিত করা গনতান্ত্রিক বিবেচনায় উভয় পক্ষই “হত্যার” জন্য দায়ী যার বিচারের দাবী হয়তো কোন না কোন দিন জনতার আদালতে উঠতে পারে। এমপি হলে গাড়ী, বাড়ী, নারীসহ সহজেই গড়ে উঠে নিজের একটি লাঠিয়াল বাহিনী, তখন নিজের মধ্যে একজন সামন্ত প্রভুর ভাব চলে আসে, চলনে বলনে ও ঠাটেবাটে। তাছাড়া এক শ্রেনীর চাটুকার বাহিনী গড়ে উঠে যারা এমপিকে ভগবানের আসনে বসিয়ে এলাকায় লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এম.পিদের চাকরামী করে। এমপি হওয়ার জন্য যারা নিজ দলকে বিলুপ্ত করে দিলো নিজ দলের নেতা/কর্মীদের প্রতি তারা কি সাফাই গাইবেন? তারা কি এখন বলবেন এমপি হলে তোমাদের সেবা করতে পারাবো অথাৎ ধনী শুধু আমি এক হবো না- তোমাদের বানিয়ে দিবো। এই বলে সান্তনা দেওয়া ছাড়া মুখ দেখানোর মত অন্য কোন ভাষা থাকে কি?
যে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিব হিমালয়তম জনপ্রিয়তা নিয়ে ১৯৭২ ইং সালের ১০ই জানুয়ারী বাংলাদেশে আগমন করেছিলেন, প্রত্যাবর্তনের মাত্র তিন বৎসর পর (১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট) তাকেই জীবন দিতে হয়েছে স্বপরিবারে । জানাযায় উপস্থিত ছিল মাত্র ৮জন। যদিও প্রেক্ষপট ছিল ভিন্ন, অনুসারীদের অভিযোগ ভয় দেখিয়ে মানুষকে জানাযায় আসতে দেয় নাই। মনীষিরা বলেন “উরভভবৎবহপব ড়ভ ঙঢ়রহরড়হ রং ইবধঁঃু ড়ভ উবসড়পৎধপু” অথাৎ মতের ভিন্নতাই গনতন্ত্রকে পরিস্ফুঠিত করে। কিন্তু নিজ দলকে বড় দলের নিকট উৎসর্গ করায় দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পুন:বাসিত হবে কি হবে না তা পর্যালোচনার বিষয় হলেও এ মুহুর্তে বিষয়টি দৃষ্টিকটু এবং টেকসই গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুশাসনের পরিপন্থী। লোকে বলে একদলীয় বাকশালাই বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা হ্রাস করে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল। সময়ই বলে দিবে এম.পি টিকিটের বিনিময়ে নিজ দল “হত্যার” দায় কোথায় যেয়ে যবনিকা টানবে? “সময়” সব কিছুর সমাধান দেয়- “সময়ই” বলে দিবে জনগন বিষয়টি কোন বিবেচনায় নিবেন। একদলীয় শাসন বা একচেটিয়া শাসন দেশ ও ক্ষমতাশীনদের দূর্নীতির বরপুত্র হওয়ায় সহায়ক শক্তি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়। বিগত ইতিহাস এটাই সাক্ষ্য দেয়। রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের মতে- অনংড়ষঁঃব চড়বিৎ রং অনংড়ষঁঃব ঈড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ- বিগত রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় যার সত্যতা পাওয়া যায়।
লেখকঃ জোষ্ঠ আইনজীবী ও কলামইষ্ট।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
