ঢাকাবুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আজ দেশজুড়ে
  4. আজকের সর্বশেষ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কৃষি সংবাদ
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্টগ্রাম
  10. চাকরি-বাকরি
  11. ছড়া-কবিতা
  12. জাতীয়
  13. জীবনযাপন
  14. ঢাকা
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার হিড়িক

সায়েদুল ইসলাম বাদল
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর পরই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। হঠাৎ করেই তারা যেন সারাদেশে সরব হয়ে উঠেছে। এতে জনমনে স্বস্তি আসলেও রাজনৈতিক মহলে পক্ষে বিপক্ষে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। বিষয়টি সারাদেশে টক অফ কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ব্যানার সাঁটিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন নেতাকর্মী। গতকাল বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেলগেট সংলগ্ন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে দেখে তারা স্থান ত্যাগ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুর ২টার দিকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসে পাঁচ জন যুবক জড়ো হন। এ সময় জরাজীর্ণ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচতলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ শাখার একটি ব্যানার সাঁটিয়ে তারা স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এ সময় তারা, ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘নারায়ণগঞ্জের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’, ‘নারায়ণগঞ্জের মাটি বঙ্গবন্ধু ঘাঁটি’, ‘নারায়ণগঞ্জের মাটি শেখ হাসিনার ঘাটি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, এরকম একটা ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছি। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সেখানে কোনও ব্যানারও পাইনি। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, যারা স্লোগান দিয়েছিল তারাই ব্যানার সরিয়ে নিয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি দফায় দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন কোনও দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
বরিশালে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উড়ল : দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিত্যাক্ত অফিসগুলো খোলার ধারাবাহিকতায় এবার বরিশাল নগরীর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। একইসঙ্গে টানানো হয়েছে একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল— “শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকেই কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর একটি ব্যানার টাঙানো হয়, যা একজন ছাত্রলীগ নেতার সৌজন্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যানারটি কয়েক ঘণ্টা পর খুলে ফেলা হয়। তবে একটি ভ্রাম্যমাণ খাবারের ভ্যানের সঙ্গে টানানো জাতীয় পতাকাটি সন্ধ্যা পর্যন্ত রয়ে যায়। কারা এবং কখন এসব টানিয়েছে— সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। ভবনের দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীরা জানান, তারা কিছু দেখেননি বা জানেন না। সিটি করপোরেশনের নিরাপত্তা প্রহরী ইনচার্জ মো. ডালিম বলেন, ওখানে নিরাপত্তা প্রহরী থাকে। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করে বলতে পারবো, কখন ও কারা টানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যুবলীগ নেতা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে সকলের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। রাজপথে থেকে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টাঙানো ও সীমিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের খবর আসছে। রাজবাড়ী, কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বরিশালে এই ঘটনাকে অনেকে দলের পুনর্গঠন ও রাজপথে ফেরার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা বলে মনে করছেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হঠাৎ শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ব্যানার : গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার পর শহরের গাড়িখানাস্থ দলীয় কার্যালয়ের ছাদের সামনের দেয়ালে ব্যানারটি দেখা যায়। তবে কে বা কারা, কখন এটি টানিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ এসে ব্যানারটি নামিয়ে হেফাজতে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সড়কমুখী অংশে ঝুলানো ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার একটি আলিঙ্গনরত ছবি ছিল। ব্যানারের এক কোণে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ছিল। অনেক পথচারী ব্যানারটির ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয় দোকানদাররা জানান, কে বা কারা ব্যানারটি টানিয়েছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। এক দোকানদার বলেন, তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল। গত ৫ আগস্ট বিকেলে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা কার্যালয়ে আগুন দেয় এবং পরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে ভবন কর্তৃপক্ষ প্রবেশপথ ইট দিয়ে বন্ধ করে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, পাশের ভবনের কার্নিশ ব্যবহার করে কেউ ছাদে উঠে ব্যানারটি টানাতে পারে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানা ও কসবা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং ব্যানারটি অপসারণ করেন। যশোর কোতয়ালী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ও কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই অহিদুজ্জামান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যানারটি অপসারণ করে কসবা পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। তবে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মেদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। এমনকি পুলিশের কোনো সদস্য ব্যানার অপসারণ করেনি বলেও তিনি দাবি করেন।
কুড়িগ্রামে গুঁড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন : কুড়িগ্রামে গুঁড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জেলা শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির জেলা কার্যালয়ের স্থানে ব্যানারটি ঝুলতে দেখা যায়। ব্যানারটি টাঙানোর সময়ের একটি ভিডিও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, ‘কুড়িগ্রামের মাটিতে আওয়ামী লীগের পতাকা উড়বেই।’ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গুঁড়িয়ে দেওয়া ভবনের সামনে লাগানো ব্যানারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়’ লেখা। এ সময় পাঁচ থেকে সাতজন তরুণকে সেখানে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, পতাকা ও ব্যানার লাগানোর পর ওই তরুণেরা ‘জয় বাংলা’; ‘শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’; ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আবদুল আজিজ সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য একজনকে জাতীয় পতাকা নামাতে দেখা যায়। এ সময় আবদুল আজিজ বলেন, আমরা পতিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ সেখানে পাঁচ থেকে সাতজন ছাত্রলীগ এসে ব্যানার টাঙিয়েছে। যাঁরা এই সুযোগ দিলেন, তাঁরা এর ফলাফল খুব দ্রুতই টের পাবেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ঘিরে রাখা স্থানের টিনের বেড়া ভেঙে দেন। এর আগে গত বছর ৬ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও একদল বিক্ষুব্ধ লোক এই কার্যালয় এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেন। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আওয়ামী লীগের গুঁড়িয়ে দেওয়া কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
রাজবাড়ী আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে টাঙানো হলো বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি : এবার রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো হয়েছে। এ ছাড়া দলীয় কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানারও টাঙানো হয়েছে। ব্যানারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানার ছবি বসানো আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আজ বুধবার ভোরের কোনো এক সময়ে এসব ছবি ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে মাস্ক পরা কয়েকজন তরুণকে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি হাতে দেখা যায়।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী শহরের রেলগেট শহীদ স্মৃতি চত্বরের পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপুর ছবিসংবলিত ব্যানার ঝুলছে। কার্যালয়ের ভেতর বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার কোনো ছবি নেই। তবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবিসহ নির্বাচন নিয়ে কয়েকটি পোস্টার সাঁটানো আছে। স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া বলেন, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকেও শুধু জাতীয় পতাকা টাঙানো ছিল আর কিছু ছিল না। গতকাল সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোরের দিকে কোনো এক সময় ব্যানারটি লাগানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সকালে দুই-তিনজন তরুণ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার টাঙান। ব্যানারটিতে রাজবাড়ী জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান মিয়ার ছবিসহ নাম লেখা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রকাশ্যে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা যায়নি। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গতকাল হঠাৎ জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং উদ্বোধনী ব্যানার টানানো দেখা যায়। এরপর আজ আরেকটি ব্যানার এবং কার্যালয়ের ভেতরে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল বলেন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, নতুন করে ব্যানার ও ছবি টাঙানোর বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমাদের জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোয়াখালী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ব্যানার ঝুলিয়ে মিছিল : নোয়াখালীর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তালা ভেঙে প্রধান ফটকে ব্যানার ঝুলিয়ে মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। বুধবার সকাল ৭টার দিকে শহরের মাইজদীতে প্রধান সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে ব্যানারটি অপসারণ করে পুলিশ। এ সময় কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে বলে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের আগের দিন ৪ জুলাই নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভেতরে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা। পরে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। তারা বলছে, বুধবার সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী হঠাৎ দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এক পর্যায়ে তারা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার প্রধান ফটকের সামনে ঝুলিয়ে দিয়ে স্লোগান দেন এবং মিছিল করেন। মিছিলকারীরা নিজেদের তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মী বলে পরিচয় দেন। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং এ সময় মোবাইল ফোনে অনেকে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে মিছিল করে। কিছুক্ষণ পরই ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, পরে আগুন দিলেন একদল ‘তরুণ’: হবিগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলটির কয়েকজন নেতা–কর্মী। আজ বুধবার দুপুরে শহরের টাউন হল সড়ক এলাকায় ওই কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এর কিছুক্ষণ পরে কার্যালয়টির মূল ফটকে আগুন ধরিয়ে দেন একদল তরুণ ও যুবক। ওই সময় দলটির কোনো নেতা–কর্মী সেখানে ছিলেন না। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়টির সামনে সদর ও পৌর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী আকস্মিকভাবে জড়ো হন। তাঁরা কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং স্লোগান দেন। এরপর প্রায় ১০ মিনিট পর তাঁরা স্থান ত্যাগ করেন। পতাকা উত্তোলনের সময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সব ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবে। এদিকে বেলা দুইটার দিকে একদল তরুণ ও যুবক জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান। একপর্যায়ে তাঁরা মূল ফটকে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে প্রায় দেড় বছর ধরে পড়ে থাকা ধ্বংসস্তূপে আগুন দেখে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, তাঁরা চলে আসার পর শুনতে পান, কে বা কারা অফিসটিতে আগুন দিয়েছে। পরে আগুন নিজে থেকেই নিভে যায়। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আন্দোলনের সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র–জনতা হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়টিতে কয়েক দফা আগুন দিয়েছিলেন।

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য।

এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: