আন্তর্জাতিক নারী দিবস’২০২৬ উপলক্ষে ‘বৈষম্য রুখবো, প্রথা ও সংস্কার ভাঙবো, সমতার পৃথিবী গড়বো’-এই প্রতিপাদ্যটিকে সামনে রেখে এক আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
আজ রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটির উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির প্রথমে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি শহীদ মিনার থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংগঠন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
২য় পর্বে শহর সভাপতি সাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠন কার্যালয়ে (১৮ নবাব সলিমুল্লাহ রোড) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। সভায় বক্তারা বলেন- বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী দিবস পালন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের পর এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে কন্যা শিশু ও নারীদের প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতনের ঘটনা এবং ধর্মান্ধ গোষ্ঠী কর্তৃক নারীকে উদ্দেশ্য করে অসম্মান ও অসৌজন্যমূলক উক্তি দেশকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। তাই আজ সফলতার কোন গল্প নয়। বরং নারী দিবসে এসে নারী অধিকার কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হলো- সেই বিশ্লেষণ করার দিন। বক্তব্যে আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ধর্মীয় উন্মাদনা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থবিরতা ইত্যাদি কারণে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সারা দেশে কি পরিমাণ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে শেষ করা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ডে ৭ বছরের কন্যা শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়াকে বিভাগের কর্মচারী কুপিয়ে হত্যা করে, নরসিংদী ও ভোলায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, পাবনায় দাদীকে হত্যা করে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যাসহ নানা রকম সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহ-অশান্তি ও নির্যাতনও বৃদ্ধি পেয়েছে। বক্তরা আরও বলেন, এজন্য সকল সম্প্রদায়ের অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করতে হবে, সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, বাল্যবিবাহ রোধ, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া বন্ধ, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, সকল ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য তথ্য প্রযুক্তির সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে, নারীদের প্রযুক্তির সাথে ব্যাপকভাবে পরিচিত করাতে হবে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের স্বাবলম্বী হবার সুযোগ দিতে হবে, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। সর্বোপরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বক্তব্য প্রদান করেন- জেলার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আনজুমান আরা আকসির, জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ, সহ-সভাপতি কৃষ্ণা ঘোষ, জেলা সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুন, শহর সংগঠন সম্পাদক নীলা আহমেদ, পরিচালনা করেন শহর সাধারণ সম্পাদক শোভা সাহা, আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার সাবেক সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী। কবিতা আবৃত্তি করেন স্বনামধন্য আবৃত্তিকার ও সদস্য ফাহমিদা আজাদ, গান পরিবেশন করেন সংস্কৃতি সম্পাদক শাশ্বতী পাল ও সদস্য দীপা রায়সহ সংস্কৃতি উপ পরিষদের সদস্যবৃন্দ। সভায় জেলা, শহর ও পাড়া কমিটির ৭৮ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
