আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মিমি পূজা দাস, সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক রুখসানা আফরোজ আশা, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, সহ-সভাপতি নিগার সুলতানা পলি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুন্নি সরদার। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্যসচিব নাসিমা আক্তার।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা পালন,অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বহুযুগের লাঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে বিশ্ব নারী দিবসের সূচনা হয়। মানব সভ্যতার ইতিহাস যেমন নারী পুরুষের সংগ্রামের ইতিহাস আবার অন্যদিকে নারীর বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ১৯১০ সালে আর্ন্তজাতিক নারী সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক নারী নেত্রী ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাবমতে ৮ মার্চকে নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিবস দিবসে ঘোষণা করা হয়। নারী দিবস ঘোষণার ১১৬ বছর পর এবং বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ৫৪ বছরে নারীদের নানা অগ্রগতি সত্ত্বেও নারীর প্রতি বৈষম্য,নির্যাতন ও অপমান আজও বিদ্যমান। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এ কথা বলা হলেও নারীরা এখনো আইনী বৈষম্যের শিকার। পিতামাতার সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার,মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুরক্ষা নিয়ে এখনো লড়তে হচ্ছে। সমকাজে সমমজুরি আইনে থাকলেও এখনো পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হয় নি। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ২০২৪ এর আগস্টে দেশে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছিল। বিগত দিনের সকল লড়াইয়ের মতোই এ ক্ষেত্রেও নারীদের অগ্রণী ভূমিকা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা লড়াই শেষে নারীদের গৃহবন্দী করার ষড়যন্ত্রও দেখেছি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাশিত একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনের প্রায় ১ মাস অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে কিন্তু নারীদের অবস্থান যে সেই তিমিরেই পড়ে থাকবে তার লক্ষ্মণ স্পষ্ট হচ্ছে। নির্বাচিত সরকারের সময়কালে ইতিমধ্যেই নরসিংদীর মাধবদী, ঢাকার হাজারিবাগ, পাবনার ঈশ্বরদী, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে লোমহর্ষক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এরকম ঘটনা ঘটানোর মতো আয়োজন থাকাটাই তো সরকারের বড় দায়। শুধু গ্রেফতার করেই এর সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার। প্রয়োজন মাদকের অবাধ প্রসার ও ওয়াজ মাহফিলের নামে নারীকে হেয় প্রতিপন্ন করা বন্ধ করা। প্রয়োজন পর্ণোগ্রাফি রোধ করে পাঠ্যপুস্তকে সংগ্রামী ও মহীয়সী নারীদের জীবনী যুক্ত করা। সরকার প্রধানের কাছ থেকে আমরা অনেক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত ও প্রতিশ্রুতি দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, ন্যায় বিচার ও আইনি বৈষম্য বিলোপের কোন কথা আমরা শুনতে পাইনি। নেতৃবৃন্দ বলেন, নারীর শ্রম এবং সম্ভ্রম যেমন পুঁজিবাদী শোষনের শিকার তেমনি সমাজে নারী- শিশু নির্যাতন- ধর্ষণ-হত্যা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। এসব মোকাবিলা করে নারীরা যখন উঠে দাড়ানোর সংগ্রাম করছে তখন ধর্মান্ধ-সাম্প্রাদায়িক আক্রমণ নারীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। নেতৃবৃন্দরা তাই বলেন নারী দিবসের চেতনার মূলেও ছিলো শোষণ বৈষম্যহীন সাম্য সমাজ গড়ার আহ্বান। তাই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নারী দিবসের চেতনা প্রতি বছর নারীদের লড়াই করার পথ দেখায়।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
