২০২৪ সালের ৯ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন নূরজাহান বেগম। গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুতে ড. ইউনূস-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে স্বাস্থ্য খাতে সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে উপদেষ্টা করা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। স্বাস্থ্য খাতে তার দায়িত্বকালকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে নীতিগত কিছু সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন জটিলতা।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি (HPNSP) বাতিলের সিদ্ধান্ত বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া এই দাতা-সহায়তাভিত্তিক সেক্টর প্রোগ্রামটির মাধ্যমে অপারেশন প্ল্যান (OP) অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হতো এবং ইপিআই কার্যক্রমসহ টিকা ব্যবস্থাপনা এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সেক্টর প্রোগ্রাম বাতিল করে রাজস্ব খাতনির্ভর ব্যবস্থায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা দেয় একাধিক জটিলতা। টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফ-কে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে আবার ফিরে আসা এই দোলাচল দীর্ঘ সময়ক্ষেপণের কারণ হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি, অনুমোদন জটিলতা এবং মহা হিসাব নিরীক্ষকের আপত্তির কারণে সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তিত হয়। ফলে টিকা ক্রয় ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইনও পিছিয়ে যায়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে হওয়ার কথা থাকলেও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নীতিগত সিদ্ধান্তের অস্থিরতা এবং সমন্বয়হীনতা এই বিলম্বের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, একই সময়ে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায় এবং প্রায় ৪১ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও এই মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি নীতিগত সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নিয়ে সরকারিভাবে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবুও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিল। এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে নূরজাহান বেগম কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সময়ের অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।
ফলে তার দায়িত্বকালীন কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো স্পষ্ট নয়। সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, তার মেয়াদকালে বড় নীতিগত পরিবর্তন নেওয়া হলেও সেগুলোর বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা ও প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তার কর্মকালের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে, যাতে জনসাধারণ প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে জানতে পারে।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
