নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় সজিব হাসান নামে এক যুবককে ছাত্রলীগ আখ্যা দিয়ে অপহরণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আইনজীবীদের চেষ্টায় ওই যুবক রক্ষা পান। তবে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে।
আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী সজিব হাসান ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বাসিন্দা। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ফারহান নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আদালতে যৌতুক মামলার হাজিরা দিতে আসা যুবক সজিবকে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে এক দল যুবক ঘেরাও করে রাখে। এ সময় সজিবকে ওই যুবকরা ছাত্রলীগ নেতা আখ্যা দিয়ে হেনস্থা করার চেষ্টা করে। তবে সজিব বার বার ছাত্রলীগ করেনা বলে তাদের জানিয়ে আসছে। কিন্তু এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে আইনজীবী রাজিব মন্ডল সেখানে এসে তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে তারা বাকবিতন্ডে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আইনজীবী রাজিব মন্ডল উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আদালতে কোন বাদী বা আসামিকে উঠিনে নেয়ার এখতিয়ার কারও নেই। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও তা করার সুযোগ নেই। পরে ছাত্রদল পরিচয় দেওয়া ওই যুবক সহ সজিবকে আইনজীবী সমিতির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে জানাতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সমাজ সেবা সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাজিব মন্ডল বলেন, আমি সজিবের আইনজীবী। যৌতুক আইনের একটি মামলায় হাজিরা দিতে আমার মোয়াক্কেল সজিব হাজিরা দিতে এসেছিল। কিন্তু হাজিরা দেওয়ার পূর্বে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে ফারহান (নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান) নামে এক যুবকের নেতৃত্বে একদল যুবক আদালত প্রাঙ্গনে এসে সজিবকে অপহরণ করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি ও বাধা দেই। পরে ওই ছাত্রদল নেতাকে আইনজীবী সমিতির ভেতরে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে চলে যান। মূলত তারা সজিবকে ছাত্রলীগ নেতা ট্যাগ দিয়ে অপহরণ করার চেষ্টা করে। অথচ আজ সজিব কোন রাজনীতিক মামলায় হাজিরা দিতে আসেনি, এটা তার পারিবারিক মামলা। তাছাড়া সজিবের বাড়ি হচ্ছে ময়মনসিংহে মুক্তাগাছায়। সুতরাং এটা পরিকল্পিতভাবে তার উপর হামলা ও হেনস্থার চেষ্টা। মামলার বিষয়ে আইনজীবী বলেন, আমার মোয়াক্কেল সজিব তার স্ত্রী শানু আক্তার শান্তার চার নম্বর স্বামী। ওই নারী মূলত কাবিন ব্যবসা করে আসছে। এ কারণে সজিবের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করেন। অথচ সজিব অনেক আগে তাকে তালাক দিয়েছে। তবুও সে কাবিনের এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য লোক দিয়ে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে ও সজিবকে ভয় দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে জানাতে চাইলে ভুক্তভোগী সজিব হাসান বলেন, আজ আমার সাবেক স্ত্রীর করা যৌতুক মামলার হাজিরা দিতে গেলে আদালতে তার লোকজন দিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা আমাকে ছাত্রলীগ নেতা ট্যাগ দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে হেনস্থা করার চেষ্টা করে। পরে আমার আইনজীবী রাজিব মন্ডল এসে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এরপরও তারা আমাকে মেরে ফেলার (হত্যার) হুমকি দিয়েছে। আর আমি ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ করিনা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান বলেন, সজিব ছাত্রলীগের রাজনীতি করে। আজ এ খবর পেয়ে আমরা আদালতে গিয়ে তাকে আটক করি। তবে আইনজীবী রাজিব মন্ডল তাতে বাধা দেয়। এবং উল্টো আমাকে হেনস্থা করা হয়। পরে আমাকে আইনজীবী সমিতির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
