ঢাকাশুক্রবার , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আজ দেশজুড়ে
  4. আজকের সর্বশেষ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কৃষি সংবাদ
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্টগ্রাম
  10. চাকরি-বাকরি
  11. ছড়া-কবিতা
  12. জাতীয়
  13. জীবনযাপন
  14. ঢাকা
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল এখনো বহাল তবিয়তে!

সায়েদুল ইসলাম বাদল
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ ১০:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে দীর্ঘদিন চেয়ার আঁকড়ে ধরে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকার ছেলে বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব তাজুল ইসলাম। স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বিআরটিসির অভ্যন্তরে অধিক পরিচিত। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচয় দিতেন, সরাসরি গণভবনে গিয়ে কথা বলতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। কোন সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে মামলার হুমকিও দিতেন তিনি।
সংস্থাটির ছোট-বড় প্রায় সব খাতের অনিয়ম-দুর্নীতিতেই নিজেকে এমনভাবে জড়িয়েছেন তিনি যেন চেটেপুটে খেয়েছেন বিআরটিসিকে। নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে স্বজনপ্রীতি, পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা থেকে নারীপ্রীতি। হেন কোনো অভিযোগ নেই যার সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। আর এসবের আংশিক ফিরিস্তি তুলে ধরে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগ সূত্রেই জানা যায় তার অনিয়ম-দুর্নীতির এসব তথ্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিসিতে থাকাকালে ৩ বছরে অবৈধভাবে প্রায় ১২০০ লোককে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। যার বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে আট কোটি টাকারও বেশি ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত ২০২১ সাল থেকে গত বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিআরটিসি থেকে তিনি ৫শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এদিকে ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেয়া নুসরাত জাহান ও ইসরাত নামে দু’জনের নিয়োগই সংস্থাটিতে বেশ আলোচিত। কারণ তাদের দুজনকেই একাধিক পদে একাধিকবার নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। তাদের দুজনই প্রথম নিয়োগ পান কন্ডাক্টর ডি হিসেবে। ফের তাদের নিয়োগ দেয়া হয় জব সহকারী হিসেবে। পরবর্তীতে আবারো তাদের একজনকে সহকারী নেজারত কর্মকর্তা ও আরেকজনকে কল্যাণ কর্মকর্তা পদে তৃতীয় দফায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিআরটিসি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নুসরাত জাহান ও ইসরাতের সাথে পৃথকভাবে চেয়ারম্যানের রহস্যময় সম্পর্ক ছিল। তবে সম্পর্কের গভীরতার বিষয়টি অনেকেই জানলেও সংস্থার অভ্যন্তরীণ চাপে পড়ার ভয়ে কেউই মুখ খুলতেন না।
এ ছাড়াও অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার পদের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও পঞ্চম স্থান প্রাপ্ত হন চাকরিপ্রার্থী মো. রাশেদ খান। পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষার সময় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হাতে আটকও হন তিনি। ঘটনা জানাজানি হলে পরিচয় মেলে রাশেদের। তিনি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের ভাগ্নি জামাই। যে কারণে আটকের পর আর তাকে পুলিশে দেননি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা; বরং তাকে ছেড়েই দেয়া হয়। গত আগস্টে বিআরটিসির নিরাপত্তা সহকারী পদে ফের তার নামে লিখিত পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করা হয়।
বিগত ২০২১ সাল থেকে গত বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়সহ সমস্ত ডিপোতে টেন্ডারবিহীন ও টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যান তার নিজস্ব লোকবল দিয়েই ডিপোর প্রায় প্রত্যেকটি কাজ করাতেন। উৎকোচের মাধ্যমে মেসার্স আল মালিক ট্রেডার্স, এম এইচ এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অনন্যা ট্রেডার্সকে দিয়েও কাজ করাতেন তিনি। এ ক্ষেত্রে অন্য কারো কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকতো না। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি ১২ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও তার ছেলে অমির ফাস্ট সিকিউরিটি ও স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মো. নজরুল ও জামান নামের জনৈক দুই ঠিকাদার ঘুষের অর্থ লেনদেন করতেন। বিআরটিসি বাসে ইন্টারনেট স্থাপনের কাজটিও করেন সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের ছেলে অমি ও তার বন্ধু। তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্টারনেট স্থাপনের কাজটি করা হলেও এর কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না যাত্রীরা; বরং প্রতি মাসেই দেশের সমস্ত ডিপো থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অমি ও তার বন্ধু মাসিক প্রায় ১৮ লাখ টাকা বিল গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা দুই বছরে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গনকিরপাড় এলাকার জনৈক মরিয়মের মেয়ে ফাহিমাকে রক্ষিতা হিসেবে রাজধানীতে ফ্ল্যাট ভাড়া করে রেখে ব্যাপক সমালোচিত তিনি। তার ছেলেও অবৈধ সম্পর্কের পর বাসার কাজের মহিলাকে বিয়ে করে যথেষ্ট সমালোচিত। তাজুল ইসলামকে মেয়ে সাপ্লাই দিতেন মগবাজার নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির জনৈক ঘরজামাই বাদল চৌধুরী। ঘরজামাই বাদল চৌধুরীকে তিনি খালু বলে সম্বোধন করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের আগের চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার সময় বিআরটিসির ফান্ডে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা রেখে যান। তাও নেমে আসে ১৪ কোটি টাকায়। শুধু তাই নয়, গাড়ির লিজ গ্রহীতাদের কাছ থেকেও প্রায় চার কোটি টাকার উপঢৌকন গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সমস্ত ডিপো ইনচার্জদের কাছ থেকে গাড়ি মেরামত, গাড়ির পার্টস ও যন্ত্রাংশ ক্রয় বাবদ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমেও প্রায় আট কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি।
শেখ হাসিনার পতনের দুদিন পর গত ৭ আগস্ট (২০২৪) রাষ্ট্র যখন সরকারবিহীন এবং সরকারি অফিস আলাদাত বন্ধ, ওই সময় পিওএল অ্যাটেনডেন্ট পদে ১০ জন, ২ জন বুকিং সহকারী ও ২ জন পিওএল সহকারীকে দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নিয়োগ দেন। ইতোমধ্যে তাকে গ্রেফতারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন হলেও রাজধানীর ইস্কাটনের বাস ভবনে বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঘুষ দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ একতরফা লুটপাট করে শতশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন এই তাজুল ইসলাম। বিআরটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের আগে তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন মাঠপ্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।এ বিষয়ে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য।

এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: